মো. সাইদুল আনাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে অবাঁধে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে স্থানীয় এমপি’র আস্থাভাজন ও লালচাঁদ বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড উজ্বল সর্দারের নেতৃত্বে প্রভাবশালী মহল। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড়, মাজদিয়াড়সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন পদ্মা নদী থেকে অবাঁধে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করছেন একসময়ের চরাঞ্চলের ত্রাস সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান লালচাঁদের সেকেন্ড ইন কমান্ড উজ্বল সর্দার ও তার লোকজন। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে ভারত-বাংলাশে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, নির্মাণাধীন নদীরক্ষা বাঁধ ও নদীপাড়ের মানুষ।পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিনা টেন্ডারে ১০টি স্থানে ৪২ মিটার করে নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য জিও ব্যাগ ও জিও টিউব নদীতে ফেলার বরাদ্দ দেয়। এইসব জিও ব্যাগ ও জিও টিউবে বালি ভরা হচ্ছে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনকবলিত পাড় থেকে উত্তোলন করা বালি দিয়ে।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ’র প্রচেষ্টায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ১ কিলোমিটার নদী রক্ষা বাঁধের সংস্কার কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ব্রাদার্স। যার সাব-ঠিকাদার হিসাবে কাজটি করছেন উজ্জ্বল সর্দার।কাজটি পেয়ে দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড়, মাজদিয়াড় এলাকায় পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন বালি উত্তোলন করে জিও ব্যাগ ভরার পাশাপাশি প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার শত শত ট্রলি বালি অবৈধ ভাবে উত্তোলন করে তা বিক্রি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ভাবে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার কারণে প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ তার কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। ফলে উজ্বল সর্দারের এমন অবৈধ কর্মকান্ডে মুখ বুঝে সহ্য করছেন তারা নীরবে।মরিচা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলমসহ কোলদিয়াড় এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে উজ্জ্বল সর্দার দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করে আসছে। যার কারণে নদীর বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙা বাঁধ মেরামতের জন্য কাজ পাচ্ছেন ওই উজ্জ্বল সর্দার। বাঁধ মেরামতের জন্য বালি তো সেই নদী থেকেই তোলা হচ্ছে! ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে যাচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা।
তবে বালি উত্তোলনের বিষয়ে উজ্জ্বল সর্দারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনে বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহীদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। এখন জানলাম। আমার পক্ষে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার তা নিব।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া’ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বলেন, নদী থেকে বালি উত্তোলন করে কাজ করার কথা না। তবে এটা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের।এব্যপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলনের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো। সত্যতা নিশ্চিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিউএনবি/অনিমা/০৭ এপ্রিল ২০২৩,/রাত ৮:২০