শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করলো যুক্তরাষ্ট্র গাড়িচালকের সঙ্গে প্রেম, স্বামীর ২০ লাখ টাকা হাতাতে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বিছানায় ছাড়লেন বিষধর সাপ! বিশ্বকাপ জিতলেই অবসর নেব : কুকুরেলার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গোলের দাপট, রক্ষণে অপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঢাবি অধ্যাপক নাজমুন নাহার মারা গেছেন সরকারের প্রধান লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে অবশেষে অনুশীলনে নেইমার চীনের বিরুদ্ধে তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের, তবুও… ইট উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

পদ্মা সেতু : এক্সপ্রেসওয়ের বাকি অংশে নিরাপত্তাবেষ্টনী হচ্ছে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০২৩
  • ১১৫ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : দুর্ঘটনায় ১৯ মৃত্যুর পর পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অধীনে নির্মিত মহাসড়কে যুক্ত হচ্ছে নিরাপত্তাবেষ্টনী। প্রকল্পের মূল নকশায় আসছে পরিবর্তন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) নকশায় নিরাপত্তাবেষ্টনী যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবিএ সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অল্পদিনের ব্যবধানে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় ইমাদ পরিবহনের বাস দুর্ঘটনা। গত রবিবার এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ১৯ জন। বাসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও মৃতের সংখ্যা বেড়েছে গাড়িটি ২৪ ফুট নিচে ছিটকে পড়ায়। পরদিন ‘নকশায়ও নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সড়ক আইন বলছে, মূল মাটি থেকে কোনো সড়ক যদি অন্তত আট ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়, সে ক্ষেত্রে সড়কের দুই পাশে নিরাপত্তাবেষ্টনী থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ এই সড়ক ছিল ২৪ ফুট উঁচুতে।

গত রবিবার শিবচরের ঘটনার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে আবার বাস দুর্ঘটনা ঘটে। এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর এলাকায় দুটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারায়। এর মধ্যে একটি বাস সড়কের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ধাক্কা দিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। এতে দুজন আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিরাপত্তাবেষ্টনীর কারণে বাসটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। না হলে বাসটি নিচের সড়কে পড়ে গেলে প্রাণহানি ঘটতে পারত।

বিবিএ সূত্র বলছে, কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনটি তারা দেখেছে। প্রতিবেদনের শতভাগ সত্যতা রয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল নকশায় নিরাপত্তাবেষ্টনী ছিল না। মূলত নকশটি বিদেশিরা করেছে। তারা তাদের সড়কের সংস্কৃতি ও ধারণা থেকে এখানে নিরাপত্তাবেষ্টনী রাখেনি। জানতে চাইলে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন এই নকশায় নিরাপত্তাবেষ্টনী যুক্ত করতে বিশেষজ্ঞ মতামত লাগবে। সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করব।’

এদিকে মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালা ২০২১-এর খসড়ায় বলা আছে, রক্ষণাবেক্ষণকাজের প্রয়োজনীয়তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও ম্যানুয়ালের যথাযথ অনুসরণ এবং যথার্থ কার্যসম্পাদন নিশ্চিত করতে হবে। মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের নিয়মিত পরিদর্শন অপরিহার্য বলে গণ্য হবে। শিবচরের দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে সড়কের নিরাপত্তাবেষ্টনী না থাকাকে বড় কারণ হিসেবে সরকারের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, একপ্রেসওয়ের উভয় পাশে গার্ড রেলিং (নিরাপত্তাবেষ্টনী) না থাকায় গাড়ি বিনা বাধায় রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে, মৃত্যু বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামছুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন নকশায় পরিবর্তন আনায় কোনো ক্ষতি হবে না। মাটি থেকে এত উঁচু সড়ক স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ। একটি গাড়ির ভেতর যাত্রীর জন্য যেমন সিটবেল্ট থাকে তেমনি সড়কের নিরাপত্তাবেষ্টনী হচ্ছে গাড়ির জন্য সিটবেল্ট। এতে দুর্ঘটনা ঘটলেও গাড়িকে সড়কের মধ্যে আটকে রাখা যাবে। হতাহতের সংখ্যা কমবে।

শামছুল হক বলেন, এমন সড়কের জন্য ‘ডাব্লিউ বিম’ হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাবেষ্টনী। শিবচরের যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে কিন্তু কোনো টানা রেলিং ছিল না। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেও এত ওপর থেকে গাড়ি নিচে পড়তে দেব কেন?

পদ্মা সেতুর দুই পাশে ৫৫ কিলোমিটার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এটি দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। এই সড়কের পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের দেড় কিলোমিটার ও জাজিরা প্রান্তের ১০ কিলোমিটার নির্মাণ করেছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের বাকি কাজ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

মহাসড়কের সওজের নির্মিত অংশে নিরাপত্তাবেষ্টনী রয়েছে। ‘ডাব্লিউ বিম’ হচ্ছে এক ধরনের ঢেউ তোলা টিনের পাত। তবে এতে দুটি ঢেউ থাকে বলে দেখতে ইংরেজি ডাব্লিউ বর্ণের মতো দেখায়।

এক প্রশ্নের জবাবে বিবিএর সচিব মনজুর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, নকশায় নিরাপত্তাবেষ্টনী যুক্ত করা হবে। তবে কিভাবে সেটা করা হবে সে বিষয়ে এখন আলোচনা চলছে। আলাদা প্রকল্প নেওয়া হবে কি না, সেটা নির্ভর করে খরচ ও আনুষঙ্গিক কাজের ওপর। আলাদা প্রকল্প নেওয়া না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পদ্মা সেতু প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করেও নিরাপত্তাবেষ্টনী যুক্ত করা হতে পারে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৪ মার্চ ২০২৩,/দুপুর ১২:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit