ডেস্ক নিউজ : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম নতুন পাঠ্যপুস্তক অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমার শিকড় ধরে টান দেবেন, আমি ইস্যু বানাব না? আপনি আমার অবয়ব বদলে দিতে চাইবেন, স্বাতন্ত্র্যকে বদলে দিতে চাইবেন, আমি ইস্যু বানাব না? এটা জাতির অস্তিত্বের ইস্যু। পাঠ্যপুস্তকে অজস্র ভুলে ভরা ইতিহাস ও তথ্য সংযোজন করা হয়েছে। আমাদের তো আলাদা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং পরিচয় আছে।… বাইরে থেকে কেউ স্যাংশন দিয়ে কিছু করে দেবে না। নিজেদেরই ঘুরে দাঁড়াতে হবে, জেগে উঠতে হবে।’ [মানবজমিন, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩]
মির্জা ফখরুল ইসলাম ‘অপরিণামদর্শী কারিকুলাম ও মানহীন পাঠ্যপুস্তক’ বিষয় নিয়ে দলীয় কর্মসূচিতে আলোচনা করেছেন ২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে যশোরে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি বলেছেন, ‘একশ্রেণির অপশক্তি পাঠ্যবইয়ের বিষয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে, কিন্তু যেখানে ভুল নেই সেখানে ভুল নিয়ে মিথ্যাচার করছে একটি অপশক্তি।’ [প্রথম আলো, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩]
সত্য ভাষণের জন্য ধন্যবাদ পেতেই পারেন বিএনপির মহাসচিব। কিন্তু নিজের মাতা-পিতার নাম কেউ ভুল করে? দলের বিষয়ে কেউ ভুল তথ্য প্রদান করে? মির্জা ফখরুল ইসলাম লিখেছেন ‘একটি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা হয়েছে ১৯৭৭ সালে এবং দলটি গঠনের পর পাঁচবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়েছে।’বিএনপি কবে গঠিত হয়েছিল? দৈনিক সংবাদ বিএনপি গঠন বিষয়ে লিখেছে ‘রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১ সেপ্টেম্বর তার সমর্থিত জাগদল ও জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠন করেন। তিনি নিজেকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন এবং সর্বময় ক্ষমতা নিজের হাতে রেখেছেন। [সংবাদ, ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮]
ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মতো স্বৈরশাসকের দলের গণতন্ত্রের সঙ্গে বিএনপির গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানের ক্ষমতার কোনো তফাৎ নেই।
উইকিপিডিয়া লিখেছে ‘১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন।’ডেইলি স্টার অনলাইন ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর লিখেছে ‘BNP and its associate bodies celebrated the 44th founding anniversary of the party across the country on Thursday. On September 1, 1978, late President Ziaur Rahman founded the party.’তাহলে মির্জা ফখরুল ইসলাম কেন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে জানালেন ‘১৯৭৭ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’?
তবে বিএনপি মহাসচিব না জানালেও জাপানি প্রধানমন্ত্রীর জানা ছিল যে ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে জাপানের কুখ্যাত সন্ত্রাসী দল রেড ব্রিগেড একটি জাপানি বিমান হাইজ্যাক করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। জাপানি কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই জিয়াউর রহমান রেড ব্রিগেডের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করে কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধীকে জাপানের কারাগার থেকে মুক্তি এবং তাদের হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিয়ে নিরাপদ দেশে চলে যেতে সুযোগ করে দেয়।
ঢাকা বিমান বন্দরে ‘এ নাটক’ চলাকালেই বাংলাদেশে একটি কথিত সামরিক অভ্যুত্থানের জের ধরে এবং এ ঘটনা কাজে লাগিয়ে জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর এক হাজারের বেশি সদস্যকে প্রহসনের বিচারে হত্যা করে। নিহতদের স্বজনদের ও মায়েদের কান্না এখনো থামেনি। তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের কথা লিখবেন না, এটা স্বাভাবিক। তিনি লিখেছেন প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ‘Elected to parliament five times’. ইতিহাস বলছে- বিএনপি ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন, কিন্তু দেড় মাসের মাথায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে এ সংসদ বাতিল হয়েছিল। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি বিএনপি আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করেছিল। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ২০ জনের বেশি বিএনপি নেতা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীও হয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবল আন্দোলনের কারণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারেনি।
বিএনপির মহাসচিব কেন সংসদে পাঁচ বার বিএনপির জয়ের কথা বললেন? দলের প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব যখন ভুল তথ্য দেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে চরম মিথ্যাচার করবেন, তাতে বিস্ময়ের কী?
তিনি লিখেছেন, ‘BNP was founded by late president Ziaur Rahman who declared war of Liberation 1971.’
বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় জিয়াউর রহমান কি ‘মৃত’ ছিলেন? বাংলাদেশের স্বাধীনতার সনদ, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র এবং বিশ্বের সর্বত্র গণমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তির পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি প্রিয় স্বদেশে ফিরে এলে লাখ লাখ মানুষ তাকে স্বাগত জানায়। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথে লন্ডন, সাইপ্রাস ও দিল্লিতে তাকে রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা প্রদান করা হয়।
বিএনপি যে জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলছে, সেই জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কীভাবে সময় কাটিয়েছেন, কেউ কি তার খবর রেখেছে? বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি রেস কোর্স ময়দানের জনসভায় জানিয়েছেন ‘বাংলাদেশে আসার পথে দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দ্রুততম সময়ে মিত্রবাহিনী হিসেবে আসা ভারতীয় সৈন্যরা স্বদেশে ফিরে যাবেন।’
বাস্তবেই সেটা ঘটেছিল ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চের আগে সকল ভারতীয় সৈন্য স্বদেশ ফিরে যায়। জিয়াউর রহমান কি এমন কিছু করেছেন? জনগণ কি এ স্বৈরশাসককে এ ক্ষমতা দিয়েছিল? তার আহ্বানে কি বাংলাদেশের কেউ পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অস্ত্র ধরেছিল? মুক্তিবাহিনীর কেউ কি মুক্ত স্বদেশে সরকারের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেছিল?
মির্জা ফখরুল ইসলাম লিখেছেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ফ্যাক্ট চেকিং কী বলে? দুটি তথ্য উল্লেখ করছি ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দলবিধির আওতায় অনুমোদন লাভ করে। অন্য কয়েকটি দলও এ সময় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন পায়। বিস্ময়ের যে জিয়াউর রহমান এ সময় তার নিজর দল গঠনের জন্য কোনো আবেদন করেননি। তখন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম। জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বলবৎ ছিল সামরিক শাসন।
জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান, বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই খন্দকার মোশতাক সবচেয়ে বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে জিয়াউর রহমানকে নিয়োগ দেন। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর বিচারপতি সায়েমকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন। এ সময় তার সঙ্গী ছিলেন এইচ এম এরশাদ ও মীর শওকত আলীসহ সশস্ত্র কয়েকজন সেনা অফিসার। এর কয়েক মাস পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েমকে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন জিয়াউর রহমান। [সূত্র: বাংলাদেশ: রক্তের ঋণ, অ্যান্থনি মাসকারেনহাস পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৬]
তাহলে জিয়াউর রহমান কীভাবে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবক্তা হলেন? তিনি তো গণতন্ত্র হত্যাকারী নিষ্ঠুর সামরিক শাসক। নিজের দল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি উদ্যোগী হয়েছেন রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব কায়েমের পর।
প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করে জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ৩০ মে প্রহসনের গণভোট আয়োজন করেন। ‘গণভোটে হ্যাঁ বাক্সে এত বেশি ভোট পড়ে যে জনগণ সেই ফলাফলকে হাস্যকরভাবে অবিশ্বাস্য মনে করে। [বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলি, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম পৃষ্ঠা ৩৭]
খন্দকার মোশতাক আহমদ, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম, জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ চারজনেই সামরিক আইন বলবৎ রেখেছিলেন এবং প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন। তাদের আমলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পূর্ণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বেতার ও টেলিভিশন তো পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান ও জেনারেল ইয়াহিয়া খানের জমানার মতো সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাহলে জিয়াউর রহমান কীভাবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন? ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন কয়েকটি সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছিল। এ গুলো পুনঃপ্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনে সরাসরি জড়িত খন্দকার মোশতাক আহমদ।
তবে খন্দকার মোশতাক অন্যায় ও অসাংবিধানিক কাজের ধারাবাহিকতা জিয়াউর রহমান বজায় রেখেছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দল গঠনের ৫ মাসের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক শাসন বহাল রেখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়। এ বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডসহ খুনি মোশতাকের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ড অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায়, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিচার না করার জন্য খুনি মোশতাকের জারি করা কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা। বিএনপি এ দায় কী করে এড়াবে?
বিচারপতি সায়েম তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন (১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল) সেনাবাহিনীর প্রধানের মতো একটি স্থায়ী সার্ভিসের প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায়। তিনি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেন স্থল, বিমান ও নৌবাহিনী এই তিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেকটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব থাকা অবস্থায়। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক প্রশাসক পদে। এ সব পদে পাকিস্তানের জেনারেল ইয়াহিয়া খান বহাল ছিলেন বাংলাদেশের চূড়ান্ত মুক্তি ও বিজয় লাভ করা পর্যন্ত। [বঙ্গভবনের শেষ দিনগুলি, পৃষ্ঠা ২২]
মিথ্যাচার যাদের অভ্যাস বা স্বভাব, তাদের কথায় বা লেখায় অজান্তেই কখনো কখনো সত্য প্রকাশ হয়ে পড়ে। যেমন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম লিখেছেন ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের বেশি, রপ্তানির হার বাড়ছে, শিল্পায়ন গতি পেয়েছে এবং কৃষিতেও দ্রুত প্রবৃদ্ধি ঘটছে।’ বিশ্ব জানে, বাংলাদেশও জানে এ সব অর্জন ঘটেছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে।
বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বাংলাদেশের নিজস্ব তথ্য জানাচ্ছে ২০০৬ সালের অক্টোবরে খালেদা জিয়া ক্ষমতা ছাড়ার সময় বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৭১ বিলিয়ন ডলার (মাথাপিছু জিডিপি ৪৬০ ডলার)। শেখ হাসিনা ২০২২ সালে জিডিপি নিয়ে গেছেন ৪৬০ বিলিয়ন ডলারে (মাথাপিছু জিডিপি ২৭৩৪ ডলার)। ২০০৬ সালে রপ্তানি ছিল ১২৮৮ কোটি ডলার, ২০২২ সালে তা চার গুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৮৮ কোটি ডলার। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ছিল ৭.২ শতাংশ।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানিয়েছে ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে বাংলাদেশের চাল উৎপাদন ছিল ২ কোটি ৬৫ লাখ টন, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ টনে (বিশ্বে চাল উৎপাদনে তৃতীয়)। বিএনপির এক যুগের অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বারবার বলেছেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন নীতি হবে ভুল, কারণ এ অর্জন হলে উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করবে না।
এমন আত্মঘাতী বাংলাদেশকে কখনো উন্নত বিশ্বের সারিতে নিয়ে যাওয়ার সহায়ক নয়। বিএনপি অবশ্য সে চেষ্টা কখনো করেনি।
বিএনপি মহাসচিব জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে লিখেছেন, খালেদা জিয়ার শরীর খুবই খারাপ, বাংলাদেশে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব নয় এবং তাকে অবিলম্বে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে শেখ হাসিনার সরকারের ওপর প্রভাব খাটান এবং আন্তর্জাতিক সমাজের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরুন।
এ চিঠি লেখার পর কিন্তু তিন বছরের বেশ অতিক্রান্ত হয়েছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশেই বসবাস করছেন এবং তার শরীরের যে ধরনের ‘অবনতির কথা’ লেখা হয়েছে, তা সঠিক ছিল না বলেই মনে হয়। বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন ‘শিকড় ধরে টান দেওয়ার’ কথা। মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য প্রদানই কি তাদের শিকড়?
কিউএনবি/আয়শা/০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩/বিকাল ৫:৪৮