ডেস্ক নিউজ : আড়াই বছর আগে লিবিয়ার মিজদাহ এলাকায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানব পাচার মামলার আসামি মাদারীপুরের জুলহাস সরদারকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ আসামির নিয়মিত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে বৃহস্পতিবার তাকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চ। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জামান।
২০২০ সালের ২৮ মে লিবিয়ার মিজদাহ এলাকায় ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে মানব পাচারকারীরা। এর মধ্যে ১১ জনের বাড়ি মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। জুলহাস মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সত্যবতী গ্রামের আবদুল মজিদ সরদারের ছেলে। ভুক্তভোগী পরিবারদের দাবি জুলহাস সরদারের মাধ্যমে নিহত কয়েকজনকে লিবিয়া পাঠানো হয়েছিলো।
এ ঘটনায় রাজৈরের বিদ্যানন্দী গ্রামের মানিক হাওলাদারের বাবা শাহ আলম হাওলাদার বাদী হয়ে জুলহাস সরদারসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। পরে একই গ্রামের নিহত জুয়েলের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার ও নিহত রহিম খালাসির ভাই আবুল খায়ের খালাসিও মামলা করেন। এই মামলায় জুলহাস সরদারসহ সাতজনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানায় জুলহাস সরদারের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করেন বামনডাঙ্গা গ্রামের নিহত সুজন মৃধার বাবা কাবুল মৃধা।
২০২০ সালে জুলহাস সরদার (৩৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। ওই বছর ৯ জুন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
আইনজীবী কামরুন নাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, লিবিয়ায় নিহত রহিম খালাসির ভাই আবুল খায়ের খালাসির করা রাজৈর থানার মামলায় জুলহাসকে ছয় মাসের অন্তবর্তী জামিন দিয়ে আদালত রুল জারি করেছেন। জুলহাসের বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ নিয়ে ৯টি মামলায় তার জামিন হয়েছে। জুলহাসের জামিন আদেশের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে নোট দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত আসলে চেম্বার আদালতে জুলহাসের জামিন স্থগিত চাওয়া হবে জানিয়েছেন আইন কর্মকর্তা জামান।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৩৫