ডেস্ক নিউজ : ইসলাম শুধু ধর্মবিধান ও আইনের নাম নয়; তা এমন বিশ্বাস যা স্রষ্টার অস্তিত্বের বিশদ ব্যাখ্যা দেয়, এমন ইবাদত যা আত্মার প্রতিপালন করে, এমন চরিত্র যা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, এমন বোধ যা দৃষ্টিভঙ্গিকে ঠিক করে, এমন মূল্যবোধ যা মানবসমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে, এমন শিষ্টাচার যা জীবনকে সুন্দর করে। বিধি-বিধানসংক্রান্ত কোরআনের আয়াত সংখ্যা খুব বেশি নয়। কোরআনের বেশির ভাগ আয়াতে বিশ্বাস ও অন্তরের অবস্থা, অঙ্গীকার ও হুঁশিয়ারির কথায় বলা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, ইসলাম শাস্তি দানের ওপর আত্মরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।
অপরাধমুক্ত জীবনের উপায়
কোরআনের আলোকে অপরাধ ও পাপ থেকে বেঁচে থাকার কয়েকটি উপায় নিম্নে তুলে ধরা হলো—
১. অশ্লীলতা রোধ করা : অশ্লীলতা বহু অপরাধের কারণ। সুতরাং পাপ থেকে বেঁচে থাকতে অপরাধ পরিহার করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতের মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ১৯)
২. পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করা : পারিবারিক গোপনা প্রকাশ পেলে বহু সামাজিক সংকট তৈরি হয়। তাই পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমরা নিজেদের ঘরে ছাড়া অন্য কারো ঘরে ঘরবাসীদের অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের সালাম না দিয়ে প্রবেশ কোরো না। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ২৭)
৩. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা : মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয় প্রকাশ করা বা লঙ্ঘন করার কারণে ব্যক্তি নিজে পাপের ব্যাপারে নিঃসংকোচ হয়ে যায় এবং অন্যকেও তাতে উদ্বুদ্ধ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসিরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা সাবালক হয়নি তারা যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে : ফজরের নামাজের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোশাক খুলে রাখো, এশার নামাজের পর; এই তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৫৮)
৪. অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা : অন্তর মানুষের জীবনের ধারার নিয়ন্ত্রক। তাই পাপ থেকে বেঁচে থাকতে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা জরুরি। ইরশাদ হয়েছে, ‘মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবহিত। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩০)
৫. ব্যভিচারের প্রলোভন রোধ করা : ব্যভিচার একটি জঘন্য অপরাধ। যা সমাজে আরো বহু পাপের জন্ম দেয়। ইসলাম মানুষকে ব্যভিচারের কাছে যেতেও নিষেধ করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে; তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ছাড়া তাদের আভরণ প্রদর্শন না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে। ’ (সুরা নুর, আয়াত : ৩১)
কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৪৪