ডেস্ক নিউজ : গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় বৈঠকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে জাহাঙ্গীর শিবিরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। নগরবাসীও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর বিরোধী শিবির প্রচার চালায় যে, কেন্দ্র থেকে জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এ নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। যেটির অবসান ঘটে গত দুদিনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তিন কেন্দ্রীয় নেতার বক্তব্যে। তাদের বক্তব্যে জাহাঙ্গীরকে দলে ফেরানোর বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়।
এমতাবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ ফিরে পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশ ও জাহাঙ্গীর সমর্থকরা। তাদের দাবি, যে অভিযোগে জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল সেটি প্রমাণিত হয়নি। তাকে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আর যেসব অভিযোগে জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল তার একটিরও প্রমাণ এখনও মেলেনি। এমতাবস্থায় নগরীর উন্নয়নের স্বার্থে জাহাঙ্গীর আলমকে অনতিবিলম্বে মেয়র পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তার সমর্থকদের।
জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ নিয়ে কথা বলেছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদ স্থায়ীভাবে কখনও হারাননি। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গাজীপুরে বুধবার বিকেলে মৌচাক জাতীয় যুব রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবক ক্যাম্পের অনুষ্ঠানে আসা এলজিআরডি মন্ত্রীকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন সংবাদকর্মীরা।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। তাকে তো মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বরখাস্ত যেসব কারণে করা হয়েছে, সেগুলো প্রক্রিয়াধীন। সেপ্টেম্বরের শুরুতে গোপনে ধারণ করা জাহাঙ্গীর আলমের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জেলার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে বলে জাহাঙ্গীরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অভিযোগ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীরকে ওই বছরের ১৯ নভেম্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে তার দলের প্রাথমিক সদস্য পদও বাতিল করা হয়। তাকে বহিষ্কার করা হয় দল থেকে।
ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়রের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। জাহাঙ্গীর আলম শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে তার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করে আসছিলেন। তিনি দলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেছিলেন। ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাহাঙ্গীর আলমের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, জাহাঙ্গীর তো অ্যাপ্লাই (আবেদন) করেছেন। তারটা মওকুফ করা হয়েছে। যারাই আবেদন করেছেন তাদেরই ক্ষমা করা হয়েছে। একশর মতো ছিল। অনেকে কলহে-বিবাদে জড়িয়েছে, শৃঙ্খলাবিরোধী বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এগুলো ক্ষমা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে উজ্জীবিত তার কর্মী-সমর্থকরা। জনপ্রিয় এই নেতাকে দলে ফিরিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারো বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন গাজীপুর নগরবাসী। দলে ফেরার গ্রিন সিগন্যাল পাওয়ায় এবার জাহাঙ্গীর আলমের মেয়রের চেয়ারে বসার ক্ষেত্রে যে বাধা সেটিও কেটে যাবে এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর।
জাহাঙ্গীর আলমের দলে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই। আর ক্ষমা তো মহত্বের লক্ষ্মণ।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান যুগান্তরকে বলেন, এটা (জাহাঙ্গীরের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার) আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত। আমার এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, আমি স্থানীয় মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী দিনে আধুনিক গাজীপুর গড়ার কাজে হাত দেব। প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আমরা সম্মিলিতভাবে শক্তিশালী করব।
তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। গাজীপুর মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের সবাইকে নিয়ে গাজীপুর মহানগরকে আধুনিক বাসযোগ্য আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।
কিউএনবি/আয়শা/২২ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:২৪