বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ন

‘ফারদিন আত্মহত্যা করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন’

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ১২২ Time View

ডেস্ক নিউজ : বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের লাশ উদ্ধারের পর বলা হচ্ছিল তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দীর্ঘ তদন্ত শেষে জানিয়েছে, ফারদিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, হতাশা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দীর্ঘ ৩৮ দিনের তদন্ত শেষে জানায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে ফারদিন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একা একাই ঘুরে বেড়িয়েছেন। পারিপার্শ্বিক বিষয় দেখে মনে হয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করবেন সিদ্ধান্ত নিয়েই বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সবকিছু মিলিয়েই আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি।

এদিকে ডিবির তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত হতে আজ (১৫ ডিসেম্বর) ডিবি কার্যালয়ে যান বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থী। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের তারা জানান, ডিবির তদন্তে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। ডিবির কাছ থেকে বিভিন্ন আলামত দেখে এগুলো প্রাসঙ্গিক বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনা আমরা তদন্ত করেছি। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমরা তার মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বলেছি। বান্ধবী বুশরাকে রামপুরায় নামিয়ে দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছি।

আসলে তার সঙ্গে কেউ ছিল না, একা একাই বিভিন্ন স্থানে ঘুরেছেন।যাত্রাবাড়ী থেকে লেগুনায় করে ডেমরার সুলতানা কামাল সেতুর একপাশে তিনি নামেন। কিন্তু তিনি চনপাড়ার দিকে যাননি, সেখানে কোনো ঘটনাও ঘটেনি। ঘটনার ৩৮ দিন তদন্ত শেষে এটিকে আমরা আত্মহত্যার ঘটনা বলেছি। এ বিষয়ে বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থী এসে তিন ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তার পরিবার, বন্ধু-আত্মীয়দের বলেছি ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন। হারুন বলেন, ফারদিন সেদিন রাতে বাবুবাজার ব্রিজ ও সুলতানা কামাল ব্রিজে যান। অথচ গত দুই বছরেও তিনি এসব এলাকায় যাননি। ফারদিন দুই বছরে ফোনে ৫২২টি নম্বরে কথা বলেছেন। আমরা সবার কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ফারদিন বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় হতাশার কথা বলেছেন। এক বান্ধবীকে লিখেছেন, ‘৩০ বছরের বেশি কারো বাঁচার দরকার নাই’।আবার কাউকে লিখেছেন, ‘যদি মারা যাই, বন্ধু সাজ্জাদ কষ্ট পাবে’। আরেকজনকে লিখেছেন, ‘কোনো একদিন শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখবে আমি আত্মহত্যা করেছি’। ফারদিন শুক্রবারই আত্মহত্যা করেছেন। ডিবিপ্রধান বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে তার (ফারদিন) কথা পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। তাছাড়া ফারদিনের মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না, ধস্তাধস্তির আলামত নেই। তার মোবাইল-টাকা পকেটে ছিল, হাতে ঘড়ি ছিল। কোনোকিছু খোয়া যায়নি। বুয়েটের ৪০ জন শিক্ষার্থীও এসব আলামত দেখে একমত পোষণ করেছেন।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ ডিসেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/রাত ১০:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit