আবু জাহের, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক অনুষ্ঠান-২০২২ এ “স্বর্ণপদক/গোল্ড মেডেল” পেলেন শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: রায়হান পিএএ। কৃষি উন্নয়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উদ্ধুদ্বকরণ ও প্রচার এবং প্রকাশনায় বিশেষ অবদান রাখায় তাকে এ পদক প্রদান করা হয়। রোববার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগে বিভিন্ন পেশার মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে গত বুধবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন ঢাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম এমপি এবং কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বৃন্দ, সিনিয়র সচিব, সচিবসহ সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম কর্মী, সুধীজন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ সেক্টরের এই প্রথম (১৯৭৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত) রাষ্ট্রীয় এই স্বীকৃতি/স্বর্ণপদক অর্জন করে সামগ্রিক প্রাণিসম্পদের অগ্রগতিকে আরও সমৃদ্ধ করেন।উদ্যোক্তা তৈরিতে অবদান ও জনসেবায় অনবদ্য ভূমিকা রাখায় ডা: মো: রায়হান পিএএ ইতিমধ্যে জাতীয় পর্যায়ে (ব্যক্তিগত শ্রেণি) জনপ্রশাসন পদক, (আর-৬২ তম) বুনিয়াদী প্রশিক্ষণে ২য় স্থান অর্জন করায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে স্বর্ণপদক অর্জন, এসি আই দীপ্ত কৃষি এওয়ার্ড ২০২১ অর্জন করেন।ডা: রায়হান জানান, শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল এমন কিছু করব, যা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগবে। সেই স্বপ্ন পূরণেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ির যাত্রা শুরু। এটি তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার একটি মঞ্চ। দেশি মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়া তোলা ছাড়াও মুরগির জাত সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন নিশ্চিত করতেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি উদ্যোগটি হাতে নিয়েছিলাম। এতে ‘অর্গানিক’ পদ্ধতিতে দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামার স্থাপনে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। এখন এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকে কোয়েল পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন।
তার জন্ম টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সরাবাড়ি গ্রামে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। সরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় হাতেখড়ি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শেষে ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৩ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে যোগদান করে। তার স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান। সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। স্ত্রী বিলকিস লাবণী একজন গৃহিণী।
কিউএনবি/অনিমা/১৭ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৫:২৩