জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর কারণে দুই বছর ঝাঁকজমকভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করতে পারে নি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাই এই বছর তাদের প্রত্যাশা ছিল যার জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করবে। কিন্তু বৃষ্টি ও লোডশেডিং এর কারণে তাদের “আশা” হতাশায় পরিণত হয়েছে। জানা যায়, ২০১৯ সালে সর্বশেষ জাঁকজমক পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়েছিল। কিন্তু ২০২০ এবং ২০২১ সালে করোনা মহামারীর কারণে শারদীয় দুর্গোৎসব জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করতে পারে নি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের উপাসনালয় ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিববাড়ি পূজামন্ডপ এবং রমনা কালী মন্দির পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সকালে বৃষ্টির কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রাণ খুলে “অঞ্জলি ” নিবেদন করতে পারে নি। সর্বশেষ আজ ৪ অক্টোবর (২০২২) মঙ্গলবার দুপুর থেকে সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তথা লোডশেডিং হওয়ার কারণে অনেক পুণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীরা পূজা মন্ডপে আসতে পারে নাই। যদিও পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা করা হয়েছিল।
সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় , প্রতিটি পূজা মন্ডপে বকশিশ তথা অনুদান গ্রহণের জন্য কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে একটি টেবিল থাকে। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের লোকজন স্বেচ্ছায় পূজামন্ডপ দেখে খুশি হয়ে “বকশিশ” দিয়ে থাকেন। কিন্তু এ বছর সকালে বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনেক পুণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীরা পূজামন্ডপে আসে নি। সর্বশেষ বিজয়া নবমীর দিন আজ ৪ অক্টোবর সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হওয়ার কারণে অনেক পুণ্যার্থী এবং দর্শনার্থীরা পূজামন্ডপে আসেন নাই। ফলে অনুদানের বাক্স খালি থেকে যায়।
সনাতনী ধর্মাবলম্বী লোকজনের বড় এই উৎসবে বিভিন্ন ভাসমান দোকান এবং নাগরদোলা স্থাপন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে এইসব দোকান এবং নাগরদোলা স্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে বৃষ্টির কারণে মাঠ পিচ্ছিল হয়ে গেছে। মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে নগরদোলা এবং ভাসমান দোকানদার গণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ভাসমান মিষ্টান্ন দোকানদার মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, বৃষ্টির কারণে এ বছর বেচাকেনা কম। গত দুই বছর দোকান বসে নেই। আশা করেছিলাম এই বছর ধার দিও দুর্গোৎসবের ভালো বেচাকেনা হবে। কিন্তু আজকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় তথা লোডশেডিং এর কারণে দর্শনার্থী এবং পুণ্যার্থীরা তেমন আসে নাই।ফলে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/০৫ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৩:১৫