মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

সংরক্ষিত নারী আসন: ৩ মানদণ্ডে বিএনপির মনোনয়ন

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৫ Time View

ডেস্ক নিউজ : সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সরকার গঠনের পর এখন দলটির নেত্রীদের নজর এই আসনগুলোর দিকে। ঈদের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রতিযোগিতা।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। এগুলো হলো—দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমেই আসবে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যথাযথ নিয়ম মেনেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। 

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, সংসদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বিএনপি এবার ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপিতে অনেক যোগ্য নেত্রী রয়েছেন এবং তারা মনোনয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ করছেন। সবকিছু বিবেচনা করেই দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন কারা সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হবেন। তবে এবার তরুণ নেত্রীদের মূল্যায়নের সম্ভাবনাও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রমজানের মধ্যেও গুলশানে বিএনপির চেয়ারমানের কার্যালয়ে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে প্রতিদিন ভিড় করছেন দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেত্রীরা। পাশাপাশি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যদের বাসায়ও যোগাযোগ করছেন তারা। কেউ কেউ সুপারিশের আশায় সচিবালয়েও সময় কাটাচ্ছেন। এতে কেউ আশ্বস্ত হচ্ছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছুটছেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, সরকার গঠনের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন। দলের নীতিনির্ধারকরাও সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন-পরবর্তী পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্যরা এখনো সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেননি। ফলে কারা মনোনয়ন পাবেন কিংবা কোন মানদণ্ডে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের পরিবারের কাউকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—সেটিও স্পষ্ট নয়।

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয়টি সাধারণ আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়া যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫টি আসন পেতে পারে দলটি। অন্যদিকে স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পাওয়ায় তাদেরও একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৫ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৫:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit