জালাল আহমদ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, মুক্তবুদ্ধি, স্বাধীন চিন্তাচর্চা ও লালনের প্রধান কেন্দ্র আমাদের প্রাণের গৌরব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার গৌরবময় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।দল- মত -নির্বিশেষে সকলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু আজ এটি অকল্পনীয় ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাস কে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনের একক আধিপত্যের লালন ভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নয় ,সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আজ প্রতিনিয়ত তাদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।”গেস্ট রুম” নামক অপসংস্কৃতির মাধ্যমে আবাসিক হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কে যে নির্যাতন -নিপীড়ন করা হচ্ছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই সংবাদ আমাদেরকে মর্মাহত করছে।
আজ ২ অক্টোবর(২০২২) রোববার সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে “ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর ছাত্রলীগের ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ ও ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দাবি”তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । তিনি আরো বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২২) বিকাল চারটা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাতের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি ছিল।
উপাচার্যের দেয়া সময়সূচি অনুযায়ী তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় নীলক্ষেত এলাকাস্থ মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের গেটে ছাত্রলীগের উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।এ ঘটনায় ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম,যুগ্ন সম্পাদক ফারহান আরিফ,রাজু আহমেদ সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ছাত্রদের নেতা কর্মীরা রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ছাত্রলীগের নির্মম , ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন, ক্ষোভ
প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।
তিনি আরো বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণে ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা ছাত্রলীগের দুষ্কৃতকারীদের হামলার শিকার হয়ে রক্তাক্ত ও আহত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আহত ছাত্রদলের কর্মীদের দেখতে আজ পর্যন্ত কোন হাসপাতালে যায় নি।
হামলাকারীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয় নাই। ঘটনার সত্য উদঘাটন করে দেশবাসীকে তা অবহিত করার জন্য গণমাধ্যম সমূহকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
এ সময় সাদা দলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরেন তিনি। দাবি গুলো হলো:
১/ ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ব্যবস্থা গ্রহণ;
২/২৭ সেপ্টেম্বরের হামলায় আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ;
৩/ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ;
৪/ ক্যাম্পাসে ও হলে ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠন সহ সকল দল-মতের সহাবস্থান ও নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনের নিশ্চয়তা বিধান করা।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক
আখতার হোসেন খান , অধ্যাপক আবুল কালাম, স্যার পিজে হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ডঃ মহিউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডঃ
সিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম,
মামুন আহমেদ সহ সাদা দলের ২০-২৫ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন,জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে হামলা চালায় তারা।”জয় বাংলা” শ্লোগান কারা দেয় সেটা সবাই জানে।
বিএনপি আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডিতে দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ডঃ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আমাদের সময়ে সবার প্রতি মানবিক আচরণ করত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু গত এক যুগ ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের প্রতি সহনশীল এবং মানবিক আচরণ করছে না।আমাদের সময়ে “গেস্টরুম’ নামক কোন শব্দ ছিল না।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভিন্ন মতের শিক্ষার্থীদের কে থানায় সোপর্দ করবে এটা বিশ্বাস করা যায় না।আমরা প্রক্টরিয়াল টিম অতীতে ভিন্ন মতের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের কে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে আবার দিয়ে এসেছি।
কিউএনবি/আয়শা/০২ অক্টোবর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৩৩