ডেস্ক নিউজ : পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিদায়বেলায় বলেছেন, ‘আমাদের দেশে একধরনের নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট চর্চা ছিল, এখনো আছে। সেই এক শ্রেণির মানুষ অন্যায়ভাবে ও অযৌক্তিকভাবে আমাকে তাদের বিপক্ষে আবিষ্কার করেছেন। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নাই, কোনো অনুযোগ নাই। তারাও ভালো থাকবেন, সে প্রত্যাশা করব। কারণ সবাইকে নিয়েই আমাদের আজকের বাংলাদেশ। ’
আজ বৃহস্পতিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ৩৪ বছরের পুলিশের কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার আগে শেষ কর্মদিবসে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের নানা অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ কর্মজীবনে, বিশেষ করে ডিএমপি কমিশনার, র্যাব ডিজি ও আইজিপি হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনকালে সব ভালো কাজের কৃতিত্ব সরকার ও জনগণের। আর ব্যর্থতাগুলো আমি নিচ্ছি। ব্যর্থতার দায় নেওয়ার সৎসাহস আমার আছে। ’
চাকরিজীবনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সব চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ। যতক্ষণ না পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করতে পারব ততক্ষণ পর্যন্ত সেটাই নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ। তবে ফরমালিনমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা ও সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে। ’
কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরাম নিহতের ঘটনায় অনুশোচনাবোধ কাজ করে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘যে পর্যন্ত বিষয়টি অন্যায্য বা অনৈতিক প্রমাণিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করার সুযোগ নেই। ’
অবসরে গিয়ে রাজনীতি করবেন কি না―এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবসরে গিয়ে অবসর নিয়েই ভাবব। এত দিন সরকারের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। অবসরে ব্যক্তি হিসেবে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করব। এককথায়, সমাজের অংশ হিসেবেই থাকব। ’বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে অনেক সময় মানুষ মারা যায়, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো আনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমাদের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য থাকে মানুষের জীবন বাঁচানো। এর জন্যই আমাদের হাতে অস্ত্র থাকে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে বিভাগীয় তদন্ত হয়ে থাকে। ’
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশ অনেক আগে থেকে মানবিক বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে। হেফাজতে নির্যাতন প্রতিরোধ আইন শুধু হয়তো আমাদের দেশেই আছে। এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ফোরামে জবাব দেওয়া হয়েছে। ’১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ আইজিপি হন ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল। এর আগে প্রায় সাড়ে চার বছর এলিট ফোর্স র্যাবের নেতৃত্ব দেন। দায়িত্ব পালন করেছেন ডিএমপি কমিশনার হিসেবেও। তবে ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র গত ডিসেম্বরে র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলে ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও আসে। যদিও বিদায়ি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয় নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই বলে জানিয়েছেন ড. বেনজীর আহমেদ।
কিউএনবি/আয়শা/২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২,খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:৪৫