সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ন

মমতা কি দিল্লী যাবেন? তিস্তার জল কতোটা গড়াবে?

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১২৯ Time View

ডেস্কনিউজঃ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে এক দীর্ঘমেয়াদী অমিমাংসিত ইস্যু। দু’দেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালে একমাত্র গঙ্গা নদীর পানির বণ্টনের চুক্তি সই হলেও তিস্তাসহ আলোচনায় থাকা ৮টি নদীর পানি ভাগাভাগির ব্যাপারে এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।

মানি কন্ট্রোল পোর্টালে তিস্তা চুক্তি নিয়ে এক বিশ্লেষণধর্মী মতামত প্রকাশ করেন প্রণয় শর্মা। সেখানে তিনি বলেন, তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের পথে একমাত্র বাধা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। কারণ এই পদক্ষেপে কোনো রাজনৈতিক লাভ নেই।

মমতা যুক্তি দেখিয়ে বলেছিলেন, বছরের পর বছরে ধরে কমেছে তিস্তার পানির স্তর। যার কারণে বাংলাদেশকে পানি দেওয়া প্রকৃতপক্ষে সম্ভব হয়নি।

১৯৮৩ সালে ২৫তম জেআরসি’র বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ে একটি এডহক চুক্তিতে দুই দেশ সম্মত হয়। এতে ২৫ শতাংশ অবণ্টন রেখে ৭৫ শতাংশ পানি বাংলাদেশ ৩৬, ভারত ৩৯ শতাংশ প্রাপ্তির বিষয়ে এই চুক্তি হয়। তবে এই বণ্টন কোথায় কী পদ্ধতিতে হবে তা বলা হয়নি। প্রণয় শর্মার দাবি, এর সুযোগ নেয় ভারত। ভারত গজলডোবায় ১৯৮৭ সালে ব্যারেজ নির্মাণ করে ৯ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর এলাকায় শুরু করে সেচ কাজ। ভারত নিজের ইচ্ছামত তিস্তার পানি প্রত্যাহার করতে থাকে বা করে যাচ্ছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ লালমনিরহাটের দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারেজ বা সেচ প্রকল্প চালু করলেও সেটি কোনো কাজে আসেনি।

২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চুক্তি হয়নি। এরপর ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশকে শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়ে আসা হচ্ছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিন (৬ সেপ্টেম্বর) তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিসহ ভারত ও বাংলাদেশের অন্য অমীমাংসিত বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, ‘ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নিকটতম প্রতিবেশী। গত ৫০ বছরে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব তৈরির মাধ্যমে দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছে’।

মঙ্গলবার দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের জুলাই মাসে মমতা ব্যানার্জিকে লেখা চিঠিতে সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লি সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দেখা করার আশা প্রকাশ করেছিলেন। ১২ জুলাই লেখা ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত সফরের সময় আপনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে ‘দুই বাংলার’ ভাষা ও সংস্কৃতির অভিন্নতা এবং ‘আদর্শগত সম্পর্ক’ উল্লেখ করে বলেন, ‘বিদ্যমান সম্পর্ককে সুসংহত করতে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই’।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ঢাকা সফর না করায় ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে রয়েছে। শেখ হাসিনার এবারের সফরে এই চুক্তি সই হতে হলে মমতাকে ভারতের প্রতিনিধিদলে থাকতে হবে।

জুলাইয়ে শেখ হাসিনা চিঠি পাঠালে এবারের সফরে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে এবং আলোচনায় তিস্তা চুক্তি আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সে সময় মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনের অসুবিধা ব্যাখ্যা করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত অন্যান্য ছোট নদীগুলোর পানি বণ্টন হতে পারে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা সে সময় শেখ হাসিনাকে জানিয়েছিলেন। দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে সর্বশেষ চুক্তি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, যখন গঙ্গা নদী চুক্তি সই হয় ।

এদিকে নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে অভিন্ন নদী পানি বণ্টনের কথা উল্লেখ করলেও তিস্তা নিয়ে কোনো কথা বলেননি মোদি।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। যুগের পর যুগ এ নদীগুলো এখানকার মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ নদীগুলো নিয়ে গল্প, লোকগীতি আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতিরও সাক্ষী। আজ আমরা কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে একটি সমঝোতা করেছি। এতে ভারতের দক্ষিণ আসাম এবং বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল উপকৃত হবে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে আমরা আলোচনা করেছি। ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে পানিপ্রবাহের রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় করে আসছে। বৈঠকে আমরা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি’।

বাংলাদেশের অনেকেই আশা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি করবেন । ২০১৪ সালে মোদি ভারতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রত্যাশাগুলি বেশ কয়েকটি স্তরে বেড়েছে, কারণ তার নেতৃত্বে অনেকগুলি অমীমাংসিত এবং জটিল সমস্যা সমাধান করা হয়েছিল।

বছরের পর বছর ধরে তিস্তার পানির অবাধ প্রবাহকে দিল্লি এবং কলকাতা উভয় সরকারই বাঁধ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করে বাধা দিয়েছে যা উল্লেখযোগ্যভাবে পানি প্রবাহের পরিমাণ হ্রাস করেছে।

তিস্তা পূর্ব হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয় এবং আসামের ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আগে সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং অবশেষে যমুনা হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। নদীটির ৪১৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার সিকিমে, ১২৩ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে এবং ১৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশে অবস্থিত । নদীটির প্রায় ৮৩ শতাংশ এলাকা ভারতে , আর ১৭ শতাংশ বাংলাদেশে।

ভারতের রাজ্যগুলি তাদের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলির জল বন্টনের চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই তিস্তা চুক্তি করাও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি মোদি রাজ্যে তার নিজের দলের প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারেন। এতে করে বিজেপির অবস্থানও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কিউএনবি/বিপুল/০৭.০৯.২০২২/ রাত ৮.৩৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit