রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আগামী মাসেই শুরু হবে বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন: গভর্নর উন্নয়নে গুরুত্ব পাবে সব উপজেলা: এলজিআরডি মন্ত্রী ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর রোনালদোকে নিষিদ্ধ করল পর্তুগাল হরমুজ খুললেও কাটছে না জ্বালানি সংকট, কবে কমবে পেট্রল-ডিজেলের দাম? স্ত্রীর থেকে আলাদা ৩৫ বছর, কেন আইনি বিচ্ছেদে যাননি নানা পাটেকর? ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই ভারতের আসল বস’, আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের ১৭০ কি. মি বেগে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানল হ্যারিকেন ইসাইয়াস ‘কখনো ক্ষমা চাননি’, নানা পাটেকরকে নিয়ে ফের মুখ খুললেন তনুশ্রী ‘মিস্টার মোদি যা খুশি করুন, আপনাকে আমরা ঘিরে ফেলছি, আমরা পেছাব না’

দেশব্যাপী বিদ্যুৎ-সংকট, যা বললেন প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
  • ১৫৯ Time View

ডেস্ক নিউজ : হঠাৎ করে দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবে লোডশিডেং সাড়ে ১২শ মেগাওয়াট বলা হলেও বাস্তবে এটি আড়াই হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে বলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো সূত্রে জানা গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩৫০০ মেগাওয়াট কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা ও আবাসিকে লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস। এমতাবস্থায় দেশের বিদ্যুৎ সংকট ও এর থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, ‘গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রভাব সব জায়গায় পড়েছে। কোভিডের ধাক্কা যখন সবাই কাটিয়ে উঠছিল তখনই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি সারা বিশ্বকেই গভীর এক সংকটে ফেলেছে। এই সংকট শুধু উন্নয়নশীল দেশেই না অনেক উন্নত দেশেও এর আঁচ লেগেছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি মার্কেট চরম অস্থিতিশীল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক খাদ্য পণ্যের বাজারও বেসামাল। বৈশ্বিক এই সংকট আমাদেরকেও বিপদে ফেলে দিয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানীর অনন্য মাইলফলক অর্জন করেছে। অর্থাৎ গত একযুগে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে আমাদের শিল্পায়ন অতীতের সকল সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে ‘দিন বদলের ইশতেহারে’ উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। সেই রূপকল্প আমরা বাস্তবায়ন করেছি। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস বিদ্যুতের কোন বিকল্প নাই। আমরা সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করেই কিছুটা ছন্দ পতন সব জায়গাতেই।’
 
জ্বালানী ও বিদ্যুৎ সংকট বিশ্বের অনেক দেশেই চলছে জানাতে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাপানের মত উন্নত ও অর্থনৈতিভাবে সমৃদ্ধ দেশও তাদের সাড়ে তিন কোটির বেশি মানুষকে নিয়মিত বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে পারছে না। একই অবস্থা আরেক উন্নত দেশ অস্ট্রেলিয়ারও। ভারত-পাকিস্তানের কথা না হয় নাইবা বললাম। অর্থাৎ সবাইকেই এই সংকটকালীন সময়ে রেশনিং করতে হচ্ছে। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সংকটের বিষয়ে নসরুল হামিদ বলেছেন, ‘আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৬০০-১৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে আমরা দিতে পারছি মাত্র ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর বেশি গ্যাস আমরা দিতে পারছি না। কারণ আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে কৃষি ও শিল্পখাতকে। কৃষির জন্য সার অপরিহার্য। সার উৎপাদনেও আমাদেরকে অনেক পরিমাণ গ্যাস দিতে হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের উৎপাদন ২৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বাকি বৃহৎ অংশ এলএনজি আমদানি করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময়ও গ্যাসের উৎপাদন ছিল মাত্র দৈনিক  ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখান থেকে আমরা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছিলাম দৈনিক ২৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত। ২০১৮ সাল পর্যন্ত আমরা এ সক্ষমতায় গ্যাস উৎপাদন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন কমতে শুরু করেছে, আমাদের খনিগুলোর রির্জাভ কমে যাওয়ার কারণে।  

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এলএনজি আমদানির জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় আমরা এলএনজি পাচ্ছি। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি আমদানি করতাম। কোভিড-১৯ এর আগে আমরা এক ইউনিট এলএনজি ৪ ডলারেও আমদানি করেছি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা ৪১ ডলারও ছাড়িয়ে গেছে। এত উচ্চমূল্যে আমদানি করলে আমাদের অর্থনীতির উপর বিশাল চাপ তৈরি হবে। শুধু গ্যাসের দামই না। বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম।  ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডিজেল ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ছিল সেটা এ বছরের জুনে ১৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।  

তিনি যোগ করেন,  ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার নিজস্ব জ্বালানির অনুসন্ধান, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান কূপগুলোতে আরো গভীরে খনন করে গ্যাসের অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে। এরই মধ্যে আগামী ৩ বছরের একটা আপগ্রেডেশন, ওয়ার্কওভারের স্বল্প মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েছি যাতে করে ৪৬টি কূপ থেকে দৈনিক ৬১৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস নতুন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।’

প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, ‘এই পরিস্থিতি খুব বেশিদিন থাকবে না আশা করি।  এবছরের মধ্যেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ভারত থেকে ১৬০০ মেগাওয়াট আমদানিকৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।  আপনাদের নিশ্চয় সবার মনে আছে ২০০৮ সালের আগে সারাদেশে দিনে ১৬-১৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকতো না। সেই কঠিন সময়ে আপনারা শেখ হাসিনার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। এই সংকটকালীন সময়েও আপনাদেরকে শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস রখাতে বলবো।  এই সংকট আমরা সবাই মিলেই পার করব।এই পরিস্থিতিতে সবার কাছে একটাই অনুরোধ আসুন আমরা সবাই গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যায়ী হই।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৬ জুলাই ২০২২, খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit