এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : যশোরের চৌগাছায় কিশোর স্কুল শিক্ষার্থী মিরাজ হোসেন চয়নকে (১) যৌনপীড়নে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করেন মাইক্রোবাসচালক রাজু হোসেন (২৬) । বুধবার যশোর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মাইক্রোবাসচালক রাজু। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় পৌর এলাকার বেলেমাঠ বটতলা মোড় থেকে অভিযুক্ত রাজু হোসেনকে আটক করেন পিবিআই । এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত গামছা ও মাইক্রোবাস উদ্ধার করেছেন । পরে বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে রাজু হত্যার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সালমান আহমেদ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক রাজু হোসেন চৌগাছা উপজেলার বহিলাপোতা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন মন্ডলের ছেলে। নিহত চয়ন চৌগাছা সদর ইউনিয়নের দিঘলসিংহা গ্রামের সবুজ হোসেনের ছেলে। পিবিআই ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত মিরাজ হোসেন চয়ন ৯ম শ্রেণিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি আসামি রাজু হোসেনের নিকট মাইক্রোবাস চালানো শিখত। গত রোববার রাত ৮টায় অভিযুক্ত রাজু হোসেন নিহত মিরাজ হোসেন চয়নকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। পরে দুজনে মাইক্রোবাসে বসে মোবাইল ফোনে ভিডিও দেখতে থাকে। এক পর্যায় রাত ২টায় রাজু ভুক্তভোগী মিরাজ হোসেনকে যৌনপীড়নের প্রস্তাব দেয়।
চয়ন রাজি না হওয়ার পরও চেষ্টা করে রাজু। পরে চয়ন ধস্তাধস্তি করে মাইক্রোবাস থেকে বের হয়ে যায়। এরপর রাজু হোসেন এমনটি আর হবে না বলে পুনরায় চয়নকে গাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। কিন্তু কিছু সময় পর একই প্রস্তাব দেয় অভিযুক্ত রাজু। এ সময় চয়ন আবারও বাধা দিলে তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরেন রাজু। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে শ্বাসরোধ হয়ে মিরাজ হোসেন চয়নের মৃত্যু হয়। এরপর চয়নের মরদেহ বস্তাবন্দী করে রাজু কদমতলা-মাশিলা সড়কের স্বরুপদাহ-ধূনারখাল সংলগ্ন মাধবপুর মৌজার কপোতাক্ষ নদে ফেলে দেয়।
পরদিন সোমবার সকালে কদমতলা-মাশিলা সড়কের স্বরুপদাহ-ধূনারখাল সংলগ্ন মাধবপুর মৌজার কপোতাক্ষ নদ থেকে চয়নের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সবুজ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান পিবিআই যশোরের এসআই শরীফ এনামুল হক। পরে অভিযান চালিয়ে রাজুকে আটক করা হয়।
কিউএনবি/আয়শা/১৬.০৬.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৬:৪৩