বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা৷ এরআগে বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নারী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম নিপা সাভারের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (নিউক্লিয়ার সাইন্স) ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজিক্যাল সাইন্স ডিপার্টমেন্টের (৩৫ ব্যাচ) সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ধামরাই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে স্বামীর রাজধানীর কল্যানপুরে বসবাস করতেন।
নিহতের ভাই তানভীর রায়হান রিফাত বলেন, আমার বোন নিপা তার স্বামীর সাথে রাজধানীর কল্যাণপুরে বসবাস করতো। সেখান থেকে সাভার অফিস করতেন। তার মরদেহ ধামরাই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে দাফন করা হবে।পরমানু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ টি এম ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত রোববার (৫ই জুন) দুর্ঘটনার পরপর গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি ছিলেন ফারহানা।
প্রসঙ্গত, গত রোববার সকাল নয়টার দিকে-আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকামুখী সেফ লাইন বাসটি চলন্ত অবস্থায় প্রথমে বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে ধাক্কা দিয়ে ডান পাশে থাকা গরুবোঝাই ট্রাকটিকে সামনের দিকে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে মহাসড়কের সাভারমুখী লেনে চলে আসে। এ সময় বিপরীত লেনের সাভারমুখী বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বাসের সামনের দিকে সজোরে ধাক্কা দেয় সেইফ লাইনের বাসটি। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আরিফুজ্জামান ও পূজা সরকার নামে দুজন বিজ্ঞানী, কাউছার রাব্বি নামে একজন প্রকৌশলী ওই স্টাফ বাসের চালক রাজিব এবং ঘাতক বাসটির চালক মারুফও নিহত হন। আহত হন ২০ জন। ঘটনার দিন রাতে অজ্ঞাত চালককে আসামী করে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।