ডেস্ক নিউজ : আবার রাস্তার দুই পাশে নদীর জমি লিজ নিয়ে পুকুর করে মাছ চাষ করছেন প্রভাবশালীরা। ৪০ বছর ধরে চলছে হাজার হাজার মানুষের জীবন-মরণের এই সংকট। আগাম বন্যা না হওয়ায় সাত বছর পর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার পাঠানহাট, কৈলাশকুঠি, নকুয়ামহল, শিংগারডাবরিসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এবার ধানের ভালো ফলন হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতে পুরো ক্ষেত তলিয়ে যায়। ৪০ বছর ধরে ২৫ হাজার একর জমিতে একটি ফসল হয় বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। আবদুর জব্বার নামে এক কৃষক জানান, অর্ধেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে ধান কাটতে পারেনি। এখানে যদি পানি বের হওয়ার জায়গা থাকতো তাহলে ধান কাটা সম্ভব হতো।
শামসুর রহমান নামে আরেক কৃষক বলেন, এ জমিতে আমন ধান হয় না। পানি ও বন্যার কারণে বোরোও তেমন পাই না। এ জলাবদ্ধতার কারণ ১৮ কিলোমিটার ভাটিতে পাঠানহাটের একটি সড়ক। স্থানীয়রা জানান, নদী পারাপারের জন্য বিএনপি আমলে এক মন্ত্রীর ইচ্ছায় ব্রিজ নয়, নদীর মধ্যদিয়ে আড়াআড়িভাবে তৈরি হয় সড়কটি। এতে ১৫-১৬ হাজার কৃষক ও সহস্রাধিক জেলে পরিবারের জীবনে নেমে আসে অভিশাপ। এ রাস্তার উজান-ভাটিতে শতাধিক বড় বড় পুকুর কেটে প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করছেন। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, এ রাস্তার কারণে নদীর পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
আরেকজন বলেন, এক সময় এ নদীতে মাছ মেরে জীবিকা নির্বাহ করত এখানকার মানুষ। তবে এখন পানিতে হাত দেওয়া নিষেধ। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দখলদাররা দখল করে ভোগ করছে; অন্যদিকে হাজার হাজার জনগণের মুখে ভাত যায় না। প্রবহমান নদীটি পুকুর দেখিয়ে জেলে নন এমন ব্যক্তিদের কাছে মাছ চাষের জন্য লিজ দেয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করলেন কুড়িগ্রাম রাজারহাটের মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল আলম। সরেজমিন তদন্ত করে সড়ক অপসারণ ও লিজ বাতিল করে চাকিরপাশা অবমুক্ত করতে গত ৩ বছরে সাতটি চিঠি দিয়েছে জাতীয় নদীরক্ষা কমিশন ও ভূমি মন্ত্রণালয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন আমলে না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, আমাদের কাগজপত্রের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার শুনানির মাধ্যমে সেসব জায়গার সমাধান করছেন। ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হবে ৩ বছরের জন্য দেয়া চাকিরপাশা লিজের মেয়াদ।
কিউএনবি/আয়শা/২৭.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৩৫