আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ব অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে এমন ঝুঁকির ক্রমবর্ধমান সতর্কতায় সবশেষ সংযোজন বিশ্বব্যাংক প্রধানের মন্তব্য। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস চ্যাম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংক প্রধান ডেভিড ম্যালপাস। এখানে কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস না দিয়েই তিনি বলেন, ‘আমরা যদি বৈশ্বিক জিডিপির দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখব, একটা মন্দা কীভাবে এড়ানো যায় তার পথ বের করা কঠিন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা মন্দা শুরু করার জন্য যথেষ্ট।’
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এ অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর বিরুদ্ধে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ অব্যাহত রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব। বসে নেই মস্কোও। পাল্টা অবরোধ অস্ত্র ব্যবহার করছে তারাও। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।
গত মাসেই বিশ্বব্যাংকের এক পূর্বাভাসে চলতি বছরের বৈশ্বিক আর্থিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩.২ শতাংশ কম হবে বলে জানানো হয়েছে। জিডিপি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সূচক। এ হিসাব দিয়েই কোনো অর্থনীতি কতটা ভালো বা খারাপ চলছে তার হিসাব করা হয়। সে কারণেই এর ওপর নিবিড় নজর রাখে অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। বিশ্বব্যাংকের প্রধান ডেভিড ম্যালপাস বলেন, এখনও ইউরোপের অনেক দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের প্রতি অতি নির্ভরশীল। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চাপ অব্যাহত রাখার পরও পরিস্থিতি বদলায়নি।
ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ডেভিড ম্যালপাস বলেন, রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ওই অঞ্চলে ‘উল্লেখযোগ্য মন্দা’ হতে পারে। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ইতোমধ্যে জার্মান অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। অথচ তারাই ইউরোপের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, বিশ্বে ইতোমধ্যে সার, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকটে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলো। চীনের কয়েকটি বড় শহরে লকডাউন আরোপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ডেভিড ম্যালপাস। তিনি বলেন, এর প্রভাব এখনও বিশ্বের মন্দার ওপর পড়ছে।
কিউএনবি/আয়শা/২৬.০৫.২০২২ খ্রিস্টাব্দ/বিকাল ৪:৫৫