বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

আখাউড়ায় বসতভিটা দখলের চেষ্টা নিরাপত্তাহীনতায় এক পরিবার

বাদল আহাম্মদ খান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২
  • ২৪৫ Time View
বাদল আহাম্মদ খান,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে বসবাসরত ইকবাল হোসেন বেলালের পরিবারকে উচ্ছেদ করে তাদের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি ভ‚মিদস্যু চক্রের দুর্বৃত্তরা। এতে বাধা দেওয়ায় ইকবাল হোসেন বেলাল ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে ওই দুর্বৃত্তরা। এর ফলে, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি। পৌর শহরের রাধানগর বণিক পাড়ার বাসিন্দা মৃত আবু ছায়েদের ছেলে ইকবাল হোসেন বেলাল। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী। বর্তমানে ছুটিতে দেশে অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলালের সঙ্গে জায়গা নিয়ে প্রতিবেশী মৃত রাখাল চন্দ্র বণিকের ছেলে শিপন চন্দ্র বণিকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। এ বিরোধের জেরে গত ২ মে ভোরে শিপন বণিক ও তার সহযোগীরা বেলালের বাড়ির পাকা সীমানা প্রাচীর ও টিনের বেড়া ভেঙে জায়গা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানানো হলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে শিপন বণিকসহ পাঁচজনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। আটকদের শনাক্ত করার কথা বলে বেলালকে থানায় ডাকা হয়। বেলালসহ তিনজন থানায় গেলে তাদেরও আটক করে। পরে জায়গা নিয়ে চলমান বিরোধ স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করা ও সালিশের আগ পর্যন্ত আর কোনো দ্বন্দ্বে লিপ্ত না হওয়ার শর্তে মুচলেকা নিয়ে উভয় পক্ষকে ছেড়ে দেন পুলিশ। ভুক্তভোগী ইকবাল হোসেন বেলাল বলেন শিপন বণিকদের জায়গার সাথে আমার জায়গার কোন সম্পৃক্ততা নেই, আমার যে ২৯ শতাংশ জায়গা আমি আমার জায়গাতেই আছি। তাদের যে জায়গা ছিলো তা অনেক আগেই বিক্রয় করে দিয়েছে, তাদের আর কোন জায়গা নেই। এর পরও আমার উপর বার বার হামলা করে। আমি আমাদের স্থানীয় সাংসদ আইনমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি এই ঝামেলা থেকে আমি এবং আমার নিরীহ পরিবার মুক্তি পেতে চাই। রাতে ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে এসে আমার উপর আমার পরিবারের উপর হামলা করে। আমার বাড়িতে কোন লোক নেই। আমি আমার স্ত্রী আর আমার এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করি। তারা যে কখন এসে আমাকে মেরে ফেলে এতে করে আমি আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। তারা আমার জায়গার উপর যে মামলা করেছিল সে মামলায় মহামান্য আদালত দুই হাজার তিন সালে একটি রায় দেন।

সে রায়ের বিপরীতে আমি আপিল করি, মহামান্য আদালত আমার কাগজপত্র দেখে যাচাই-বাছাই করে দুই হাজার সাত সালে সে রায় বাতিল করে দেন। গত ২ মে ভোরের ঘটনা ও জায়গাটির বিষয়ে জানতে চাইলে শিপন চন্দ্র বণিক বলেন, সালিশে আমি আমার বিরুদ্ধে আনা জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবো এসময় এই জায়গাটি তাদের বলেও ধাবি করে শিপন চন্দ্র বণিক বলেন তাদের সাথে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ঝামেলা চলতেছে। এই জায়গা আমাদের। এখানে উনার যে সাড়ে ২৮ শতাংশ জায়গা তার মাঝে সাড়ে ১৪ শতাংশ জায়গা আমাদের। আমরা দেওয়ানি আদালতের মামলায় রায় পেয়েছি। উনি আপিল করেছে। উনি সব মামলা হেরেছে। ঐ সাড়ে ১৪ শতাংশ জায়গার কোন কাগজপত্র উনার নেই।

শিপন চন্দ্র বণিক ও ইকবাল হোসেন বেলালদের মাঝে জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আখাউড়ার সভাপতি চন্দন কুমার ঘোষ বলেন, আমরা জানি গোপাল বণিক, রাখাল বণিক তারা চন্ডী সরদারের আশ্রিত ছিলেন তার বাবার আমল থেকে। বাংলাদেশ জরিপ আসার পর তারা এখান থেকে কি ভাবে যেন চার শতাংশ জায়গা তাদের নামে জরিপ করিয়েছিলেন এবং এই চার শতাংশ জায়গা আবার নূরপুর গ্রামের সাইফুল নামে একজনের নিকট বিক্রয় করে দিয়েছে। সাইফুল এবং তাদের মাঝে টাকা পাওনা দেনা নিয়ে আমাদের কাছে আসছে বলছে। কিন্তু তখন তারা এখানে জায়গা পায় এধরনের কোন কথা কখনো বলে নাই। শিপন বনিকদের এখানে আর কোন জায়গা আছে বলে আমার জানা নেই। আখাউড়া প‚জা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমার ঘোষ বলেন বেলাল এবং রাখাল বনিকের সাথে সম্পত্তি নিয়ে একটা ঝামেলা দীর্ঘদিন যাবৎ চলতেছে। আমাদের জানামতে আমরা যতটুকু জানি রাখাল বনিক তার বিএস মূলে ৩ শতাংশ ২৬ পয়েন্ট জায়গার মালিক সে সুবাদে ৩ শতাংশ এক লোকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। বাকি ২৬ পয়েন্ট জায়গা রাস্তার জন্য বিক্রি করে দেওয়ার পর তাদের আর কোন সম্পত্তির মালিকানা নেই। তার পরও জায়গা সম্পত্তির ব্যাপার নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে প্রতিপক্ষের সাথে যায় ঝমেলায় লিপ্ত। 

সে যায় ঝামেলার মধ্যে কখনো হিন্দু স¤প্রদায়ের পক্ষে কেউ গিয়ে এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ প্রতি পক্ষ রাখাল বনিকের পক্ষ থেকে কারো কাছে যায়নি। সে জন্য আমরা মনে করি ৪০-৪২ বছর প‚র্বে থেকে বেলাল গংরা যে জায়গায় অবস্থান করতেছে সে জায়গার মালিকানা তাদেরই। কারন তাদের নামে দলিল আছে তাদের নামে আরএস আছে বিএস আছে এবং হালনাগাদ খাজনা পর্যন্ত পরিশোধ। তারপরও জায়গা সম্পত্তির ব্যাপার যদি কোন যায় ঝামেলা থাকে সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে শেষ করতে হয়। নতুবা আইন আদালতের মাধ্যমে শেষ করতে হয়। একটা লোকের উপর জায়গার দাবিদার থাকলেই রাতের আধারে গিয়ে লোকবল নিয়ে হামলা করে দখল করা যাবে এটা খুবই ন্যাক্কার জনক ঘটনা, নিন্দনীয় ঘটনা। বিরোধপ‚র্ণ এই জায়গাটির সম্পর্কে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন অবগত আছেন। এই জায়গাটির সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন আপনার হয়ত জানেন রাখাল বনিকরা আশ্রিত ছিলেন। সে হিসেবে বিভিন্ন ধাপে ধাপে তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। কোর্ট তাদেরকে রায় দিয়েছে। আমরা তাদের পরামর্শ দিয়েছি তার দখলের জন্য কোর্টে মামলা করার জন্য। কোর্ট যে ভাবে রায় দিয়েছে সে একি ভাবে কোর্ট তার দখলটাও বুঝিয়ে দিক। তার পর আমরা নামজারি দিতে পারবো এর আগে আমরা কোন নামজারি দিতে পারবো না। দখল নিতে কেউ যদি জোরপ‚র্বক কিছু করার চেষ্টা করে আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

কিউএনবি/অনিমা/১০ই মে, ২০২২/২৭ বৈশাখ, ১৪২৯/সকাল ১১:৩১

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit