আমার মা আমার আদর্শ
—————————
আমি আমার মায়ের হৃদয় খানা স্পষ্ট দেখতে পাই। আমার মা আমার কাছে জগতের অনেক মায়েদের থেকে যেন আলাদা রকম ভালো মা। (হয়তো সব সন্তানের কাছেই তার মা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা) তিনি সর্বদাই অন্যের সুখে দুঃখের সাথী হন। আমাদেরকেও তেমনটাই শিখিয়েছেন।
কারো জীবনে খারাপ কিছু ঘটেছে, কিংবা কেউ খারাপ সময় কাটাচ্ছে এমন কিছু শুনলে আমার আম্মা সবসময় বলেন,”আল্লাহ তার ভালো করুন। আবার কেউ ভালো আছেন বা ভালো কিছু অর্জন করেছেন জানলেও আমার আম্মা বলেন,”আল্লাহ তার আরও ভালো করুন।” মোটামুটি আমার জীবনে আমি কোনদিন কারো দুঃখে সুখী হতে দেখিনি তাঁকে। অন্যের ভালো চাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সব অশান্তির মূল ঈর্শাকাতরতা থেকে মুক্ত থাকা। আমার মা একজন শান্তি প্রিয় সুখী মানুষ।
একবার আমার অহেতুক কান্নারত শিশুপুত্রকে নিয়ে এক হুজুরের কাছে গিয়েছিলাম আমি আর আমার আম্মা। পুত্র সম্পর্কে আমার অভিযোগ শুনে হুজুর বললেন কেউ নিভৃতে আপনার শিশুর ক্ষতি করছেন। আমি আর আম্মা একরকম অবাক হয়েই হুজুরকে বলি আমাদের তো কোন শত্রু নেই!
উনার থেকে তেল,পানি পড়া নিয়ে বাড়িতে এসে আমরা মা মেয়ে আমাদের মন প্রাণ দিয়ে শত্রু খোঁজা শুরু করি মনে মনে। মোটামুটি প্রতিবেশী, আত্মীয় পরিজন চারপাশ চষে ফেললাম একটি মুখও ক্ষতি করার মতো শত্রু হিসাবে চোখের সামনে ভাসলো না। আম্মা বললেন, আমি আমার জীবনে কোন শত্রু তৈরী করিনি ছোটবেলায় নানা কারণে বাচ্চারা কাঁদে। আমার আম্মাকে অপ্রয়োজনে কারো সাথে মিশতে দুটো কথা বলতে দেখিনি, আমাদেরকেও ছেলে বেলায় কোথাও একা ছাড়েননি। কখনো কারো সম্পর্কে নিন্দা করতে শুনিনি। আমার আম্মা পারিবারিক কাজের বাইরে সেলাই, ফোরাই, হাদীস কোরআন বা যে কোন বই পড়তেন। আমার মায়ের প্রিয় লেখক গোলাম মোস্তফা যাঁর লেখা বহু কবিতা গজল এখনো গরগড়িয়ে শুনিয়ে যান তিনি। সন্তানদের সাথে স্পোর্টস চ্যানেল দেখতে পছন্দ করতেন, এখন নাতিদের সাথে দেখেন। উনার কাছে খেলাধুলার টাটকা খবর পাওয়া যায়।
কয়েকদিন আগে ঈদ পোশাক নিয়ে আমাদের মাতামাতি দেখে আম্মার মুখে কবিতা বেরোনো শুরু হলো।
আম্মার মুখে শোনা কবিতা টা লিখলাম,,
ভূষণ
গোলাম মোস্তফা
————————
ভূষণ কেনো পড়বে তুমি ওগো আমার হৃদয় রানী
ভূষণ দিয়ে তোমার শোভা বৃদ্ধি করা ব্যর্থ জানি ।
কোথায় আছে এমন শোভা, স্নিগ্ধ মধুর মনোলোভা
কোথায় আছে মন মাতানো এমন চারু বদন খানি!
যতো কোমল যতো মধুর যতো সরস ইহাই দিয়ে
গড়লো বিধি তোমায় নিখুঁতভাবে ওগো প্রিয়ে।
ভূষণ পড়ার সার্থকতা তবে বল রইলো কোথা?
এ যে নিহাত তুচ্ছ কথা, ঝগড়া কেনো ইহাই নিয়ে।
অঙ্গে যাদের ত্রুটি আছে ভূষণ শুধু তারাই পরে
তারাই কেবল ভূষণ দিয়ে সুশ্রী হতে চেষ্টা করে
যাদের সে দোষ নেই কো মোটে, আপন শোভা আপনি ফোটে
বল দেখি তারা আবার পরবে ভূষণ কিসের তরে?
জানিনা এই লেখায় ভুল ভাল হলো কিনা ?
আশা করি সকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আর আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ পৃথিবীর সকল মাকে ভালো রেখো। আবার মনে করিয়ে দিতে চাই মা বাবা সন্তানের জীবনের বরকত,রহমত, নেয়ামত। মা দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে।
আমাদের কথাঃ কুইকনিউজবিডি.কমে ফেসবুক কর্নার নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন ফেসবুক টাইমলাইনে অনেকেই জীবনের খন্ডচিত্র এঁকে থাকেন। আমরা সে খন্ডচিত্র গুলোকে জোড়া দেয়ার চেষ্টা করছি। এখন থেকে ফেসবুক কর্নার নামের এই বিভাগে নিয়মিতভাবে অনেকের জীবনের খন্ডচিত্র তুলে ধরা হবে।
আজকে ‘গুলশান আরা ইসলাম’এর ফেসবুক টাইমলাইন থেকে পোস্টটি সংগ্রহ করা হয়েছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরের গুলশান আরা ইসলাম নিয়মিতভাবে চমৎকার লেখনীর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক চমৎকার পোস্ট উপহার দিয়ে থাকেন।
কিউএনবি/বিপুল/ ০৯ মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/ সকাল ১১.৫৫