



স্টাফ রিপোর্টার,মনিরামপুর(যশোর) : যশোরের মনিরামপুরে বলিয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিটের ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোমবার অফিস আদেশের মাধ্যমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। সংশ্লিষ্ট ক্লাষ্টারের সহকারি শিক্ষা অফিসার ড. তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবি মঙ্গলবার বরখাস্তের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
জানাযায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের বলিয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু ক্লাশ না নিয়ে লাইব্রেরিতে(অফিস) বসে মোবাইল ফোন নিয়ে আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন। ১৩ মার্চ সহকারি শিক্ষক জিবলু শ্রেনীকক্ষে না গিয়ে অফিসে বসে মোবাইল ফোন নিয়ে আড্ডায় মেতেছিলেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক রেজাউল হোসেন তাকে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তিনি কর্নপাত না করে মোবাইল ফোন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সহকারি শিক্ষক আনিচুর রহমান ও ডলি রানী বিশ্বাস জানান, ১৩ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে তারা(সহকারি শিক্ষকরা) প্রধান শিক্ষকের সাথে বৈঠকে বসে নতুন রুটিন তৈরি করেন। কিন্তু এ রুটিন নিয়ে সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু আপত্তি করেন। পরে প্রধান শিক্ষক দুপুরের খাবার খেতে বসেন। এ সময় সময় ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলু চেয়ার নিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। পরে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধারের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ফলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেহেলী ফেরদৌস ১৪ মার্চ সহকারি শিক্ষা অফিসার জহির উদ্দিন, ড.তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবী ও নাজমুল হাসানের সমন্বয়ে তদন্ত টিম গঠন করেন। তদন্ত টিমের সদস্য ঢাকুরিয়া ক্লাষ্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারি শিক্ষা অফিসার ড.তৌহিদুর রহমান নুরুন্নবী জানান, তদন্তে সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুর বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় যায়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেহেলী ফেরদৌস জানান, তদন্ত টিমের সুপারিশ অনুসারে সহকারি শিক্ষক অহেদুজ্জামান জিবলুকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বরখাস্তের ঘটনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক রেজাউল হোসেন বলেন, একজন শিক্ষক হয়ে অন্য শিক্ষকের ওপর যেন আর কেউ এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা না ঘটায়। তবে বরখাস্তের বিষয়য়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক অহেদুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধীকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কিউএনবি/আয়শা/২২শে মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সন্ধ্যা ৭:৪৯