শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  গাছের চারা বিতরণ। ‎পাটগ্রামে মাদ্রাসার নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ শ্রেষ্ঠ আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম নোয়াখালীতে যুবদল নেতাকে গায়েবি চুরি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১২   নতুন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সোহেলের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা মিছিল নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ২জনের কারাদন্ড চৌগাছা পরিবারের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলদ-ঔষধি গাছ,বিতরণ  কুইন সুলিভানকে থাপ্পড় মারায় শাস্তির মুখে লিওনেল মেসি বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা আবহাওয়া অফিসের

পেঁয়াজ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২
  • ৯৮ Time View

 

ডেস্ক নিউজ : পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে এখন সাড়ে ৩৩ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় চীন ও ভারতে। দেশে গত বছর পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল সাড়ে পাঁচ লাখ টনের বেশি। আমদানিতে এর পরেই আছে যুক্তরাষ্ট্র।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পেঁয়াজের ক্রমবর্ধমান ভোগ, উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান, ভালোমানের বীজের অভাবসহ কয়েকটি কারণে চাহিদার তুলনায় দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি থাকছে। তাঁদের মতে, শুধু উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান কমিয়ে আনতে পারলে এবং উৎপাদনের পরিমাণ আরেকটু বাড়াতে পারলে কয়েক বছরেই পেঁয়াজে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কৃষক যাতে দাম ভালো পান, সে জন্য উৎপাদন মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। দেখা গেছে, ভালো দাম পেয়ে কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হওয়ায় গত অর্থবছরে এক লাফে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছিল আট লাখ টন।

এর পাশাপাশি উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান কমাতে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। অনাবাদি ও চরের জমি পেঁয়াজ চাষে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভালো বীজ সহজলভ্য করতে হবে এবং উচ্চফলনশীল জাতগুলোর চাষ বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের (বগুড়া) পরিচালক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাজহারুল আনোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, পেঁয়াজের মূল ঘাটতি হয় উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান ও অবচয়ের কারণে। কয়েক ভাবে এই লোকসান হয়। সবচেয়ে বেশি হয় সময়ের ব্যবধানে পেঁয়াজের পানি শুকিয়ে। এ ছাড়া সংরক্ষণ পদ্ধতি সঠিক না হলে কিছু পেঁয়াজ পচে যায়। বাকিটা হয় মাঠে ও পাইকারি-খুচরা বাজারে।

মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘কৃষকদের সচেতন করতে পারলে উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান সর্বোচ্চ ২০ শতংশে নামিয়ে আনা যায়। তবে লোকসান হিসাব করেই আমরা চাহিদা অনুসারে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এ জন্য অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আগাম পেঁয়াজ আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভালো দাম পেলে কয়েক বছরের মধ্যেই তা সফল হবে। ’

চাহিদা ও উৎপাদন

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ সালে পেঁয়াজের চাহিদা ছিল ৩৫ লাখ টন। চলতি ২০২১-২২ সালের জন্য চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টন। আগামী বছর এই চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান মাসে পেঁয়াজের চাহিদা থাকে তিন লাখ টনের ওপরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৩৩.৬২ লাখ টন। তাদের হিসাবে, পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ২৫-৩০ শতাংশ। সে হিসাবে নিট উৎপাদন প্রায় ২৩.৫৩ লাখ টন। রান্নার সময় ফেলে দেওয়া অংশ ও নানাভাবে হওয়া অপচয় বাদ দিলে দেশে নিট চাহিদা ২৬ লাখ ৬১ হাজার টন। অর্থাৎ দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আড়াই থেকে তিন লাখ টন।

২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পেঁয়াজ চাষের জমির পরিমাণ ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১-১২ সালে দেশে ১.৮০ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল। সর্বশেষ গত অর্থবছর দেশে ২.৫৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন কৃষকরা।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে গড়ে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এর ৯০ শতাংশই আসত ভারত থেকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। ওই বছরের নভেম্বর নাগাদ পেঁয়াজের দাম ২৮০ টাকায় ওঠে। বাজার সামাল দিতে তাত্ক্ষণিকভাবে আকাশপথে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে হয় সরকারকে।

পরের বছর দাম কমলেও ৭০ টাকার নিচে নামেনি খুচরা বাজারে। এই বাড়তি দামের কিছুটা দেশের কৃষকরাও পান। গত দুই বছর কৃষক কেজিতে ৫০ টাকা দাম পেয়েছেন বলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে। তাদের হিসাবে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ টাকা। তাই ২৫ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কৃষকের লাভ থাকে।

ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষ বাড়ছে

দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখন ভাসমান বেডে পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে প্রতি হেক্টরে ২২ টন পেঁয়াজ উৎপাদন করা যায়। পেঁয়াজের আকারও বড় হয়। ক্ষেতের পেঁয়াজের তুলনায় বেডে হেক্টরপ্রতি ছয় টন বেশি ফলন হয়। তাই ভাসমান বেডে পেঁয়াজ চাষাবাদে ঝুঁকছেন অনেক চাষি।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষা শেষে নভেম্বরে পানি নামতে শুরু করলে কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। এ পদ্ধতির চাষাবাদে বীজের পরিবর্তে চারা রোপণ করতে হয়। ৮০ থেকে ৮৫ দিনে পেঁয়াজ সংগ্রহ করা যায়। এ পদ্ধতি সারা দেশের জলাবদ্ধ এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানি-নির্ভরতা কমবে।

তবু আমদানি

দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। এর পরও বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করছে। কৃষি বিপণন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে আট থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ৫.৭১ টন।

তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত অর্থবছর মোট ১২ লাখ ৯৯ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে দেশে। ২০১৯-২০ সালে হয়েছিল ১১ লাখ ৭৬ হাজার টন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র বছরে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে। আর মালয়েশিয়া করে ৫.০৫ লাখ টন এবং যুক্তরাজ্য করে ৩.৫৯ লাখ টন। সে হিসাবে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানিতে এখন শীর্ষ দেশ।

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে মৌসুমে ছয় মাস আমদানি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মসলা জাতীয় ফসলের গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার। তিনি বলেন, মৌসুমে মার্চ-মে পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখছে সরকার। এতে পেঁয়াজের ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষক। তবে যে হারে উৎপাদন বাড়ছে তাতে পেঁয়াজ আমদানি ছয় মাস বন্ধ রাখা উচিত। অন্যথায় কৃষক দাম পাবেন না।

শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, ‘হিসাব করে দেখেছি, কৃষক যদি ২৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেন তাহলে তাঁরা লাভবান হবেন। কিন্তু মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম অনেক জায়গায় কেজি ২২ টাকায় নেমেছিল। এটা সমস্যা। ’

রোডম্যাপ

২০২০ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করে। ২০২১-২৩ সালের এই রোডম্যাপে পেঁয়াজ ঘাটতি ১১ লাখ টন ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করে। তাতে পেঁয়াজ ঘাটতির জন্য মানসম্মত বীজের অভাবকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশে মোট এক হাজার ১০০ টন বীজের প্রয়োজন। সরকারিভাবে পাঁচ-ছয় টন, বেসরকারিভাবে ৫০-৬০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয়। বাকিটা কৃষক উৎপাদন করেন, যা পুরোপুরি মানসম্মত নয়।   

পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনকারী ও বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষি অর্থনীতিবিদ আবদুল আউয়াল মিন্টু কালের কণ্ঠকে বলেন, কৃষি উৎপাদনশীলতার মৌলিক ভিত্তি হচ্ছে বীজের গুণগত মান। ফলন বৃদ্ধির পুরোটাই নির্ভর করে উচ্চমানসম্পন্ন বীজের ওপর। কৃষকরা সাধারণত উৎপাদন ব্যয় কমাতে নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করেন।

আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কৃষকের সংরক্ষণ করা বীজে প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় মাত্র দুই থেকে আড়াই টন। উন্নতমানের হাইব্রিড বীজ থেকে প্রতি একরে ১০-১২ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। লালতীর-কিং বীজে প্রতি একরে সাত-আট টন, লালতীর-২০ বীজে পাঁচ-ছয় টন এবং লালতীর-হাইব্রিড বীজ থেকে ১০-১২ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। পেঁয়াজের চারা থেকে প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তিন-চার মেট্রিক টন। তাই পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে উন্নতমানের হাইব্রিড বীজ চাষের বিকল্প নেই।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/সকাল ১০:২৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit