
ডেস্ক নিউজ : অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। বিকেল তিনটায় মেলা ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমণ এড়াতে এবারের বইমেলায় প্রবেশে টিকা সনদ লাগতে পারে বলে বেশ কিছুদিন নানা আলোচনায় উঠে এসেছে । তবে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ গতকাল জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের কোনও টিকা সনদ দেখাতে হবে না। প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরতে হবে। মেলায় প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের স্যানিটাইজ করা হবে।
সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে বইমেলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, বাংলা একাডেমির পরিচালক ও বইমেলার সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ, বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান, বইমেলার স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বিকাশ-এর চিফ মার্কেটিং অফিসার নহবত আলী প্রমুখ।
মেলার সার্বিক আয়োজনের বিষয়ে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, ‘এবারের মেলায় প্রবেশের জন্য প্রত্যেককে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরতে হবে। মেলায় প্রবেশের আগে দর্শনার্থীদের স্যানিটাইজ করা হবে। তবে, দর্শনার্থীদের কোনো টিকা সনদ দেখাতে হবে না। মেলার পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও স্টলের মালিক ও কর্মীদের করোনার ভ্যাকসিন প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
তিনি জানান, এবারের চারটি বিষয়কে মাথায় রেখে আয়োজন করা হচ্ছে। সেগুলো হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী, ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর এবং বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ৫০ বছর।
ড. জালাল আহমেদ আরও জানান, এবার মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০২১ সালের বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪টি ইউনিট; মোট ৫৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬টি ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মেলায় ৩৫টি প্যাভিলিয়ন থাকবে।
এ ছাড়া লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রধান অংশে। সেখানে ১২৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে।
বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে চারটি প্রবেশ পথ ও তিনটি বের হওয়ার পথ থাকবে। বইমেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ। নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকা জুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসব আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪টায় বইমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বইমেলা ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
কিউএনবি/অনিমা/১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/দুপুর ১২:৪৮