বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন

চৌগাছায় নিখোঁজ স্বামীর অপেক্ষায় ১৭ বছর পথ চেয়ে বসে আছেন স্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৯৫ Time View

 

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)  : যশোরের চৌগাছায় নিখোঁজ স্বামীর অপেক্ষায় ১৭ বছর যাবৎ পথ চেয়ে বসে আছেন অসহায় এক স্ত্রী। ২০০৪ সালে কোরবানির ঈদের কয়েক দিন পর বন্ধুর সঙ্গে বাড়ী থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন উপজেলারসিংহঝুলী ইউনিয়নের গরীবপুর গ্রামের মৃত সায়েদ আলীর ছেলে আব্দুল মান্নান। এ ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরি অপহরণ মামলায় রূপান্তরের পর পাঁচ বছরের সাজাও হয়েছে তার বন্ধু সোলাইমান হোসেনের। কিন্তু ১৭ বছর ধরে অপেক্ষা করেও স্বামীর সন্ধান পাননি স্ত্রী চায়না বেগম।আব্দুল মান্নানের স্ত্রী চায়না বেগম, স্থানীয় বিএনপি নেতা এবং গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের কোরবানির ঈদের কয়েক দিন পর একদিন দুপুরে বন্ধু সোলাইমানের সঙ্গে নিজ বাড়ি থেকে বের হন দুই সন্তানের জনক আব্দুল মান্নান। সেই থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে ২০২০ সালে এ ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত সোলাইমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি লাপাত্তা রয়েছেন। সোলামাইমান হোসেন একই গ্রামের মৃত জাহাবক্সের ছেলে। তারা দুই জনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কর্মী ছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।মান্নানের স্ত্রী চায়না বেগম বলেন, সেদিন দুপুরের দিকে সোলইমানের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান আব্দুল মান্নান। পরে সোলাইমান একা ফিরে আসে। মান্নান ফিরে না আসায় সে সময় শ্বশুর সায়েদ আলী চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যেখানে সোলাইমানের নাম উল্লেখ করা হয়। আমার স্বামী কোনো দিন বাড়ির বাইরে রাত কাটাত না। ১৭ বছর ধরে তাঁর অপেক্ষায় আছি। আজও ফিরে এলেন না। যেহেতু দীর্ঘ সময় পার হয়েছে, তাই ধরে নিচ্ছি তিনি বেঁচে নেই। তবুও আমার স্বামীর সঙ্গে কী ঘটেছে তা জানতে চাই।

সাজাপ্রাপ্ত সোলাইমানের বড় ভাই সুলতান ওরফে ভাদুড়ি বলেন, ছেলে নিখোঁজের ঘটনায় চৌগাছা থানায় সোলাইমানের বিরুদ্ধে আব্দুল মান্নানের বাবা সায়েদ আলী একটি জিডি করেন। বিষয়টি নিয়ে তখন ৫/৭ দিন খুব ঝামেলার সৃষ্টি হয়। সে সময়ের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের নেতারা গ্রামে একটি শালিস বৈঠক করেন। সেখানে আমরা সোলাইমানকে হাজির করেছিলাম।তবে সেই শালিসে অংশ নেওয়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ শাহাজাহান আলী জানিয়েছেন, ওই দিনের শলিস বৈঠকে সোলাইমান উপস্থিত ছিলেন না। তার পরিবার সেদিন তাকে হাজির করেনি। তিনি আরও বলেন, সেই থেকে আজ পর্যন্ত সোলাইমানের কোনো খোঁজ নেই। এমনকি নিজের বাবা-মায়ের মৃত্যুতেও সোলাইমানকে আসতে দেখা যায়নি।

চৌগাছা থানা ও যশোর আদালত সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল মান্নান নিখোঁজের সেই জিডি পরে অপহরণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত সোলাইমানকে ৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন। পালাতক থাকায় সোলাইমানের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তবে এখনো সোলাইমান গ্রেপ্তার হননি বা আদালতে আত্মসমর্পণ ও করেননি।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, ১৭ বছর আগে আব্দুল মান্নান নিখোঁজের ঘটনায় তার বন্ধু সোলাইমানের পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। কিন্তু তিনি পলাতক থাকায় এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

কিউএনবি/অনিমা/২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ/রাত ৮:২২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

March 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit