তোবারক হোসেন খোকন দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : সাদা মাটির পাহাড়, রানীখং মিশন, হাজং মাতা রাশি মণি স্মৃতি সৌধ, কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি যাদুঘর, ঐতিহাসিক কমল রানীর দিঘী, সুসঙ্গ রাজবাড়ী, মানবকল্যানকামী অনাথালয়, নীল পানির জলাধার, সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানি, কমলা বাগান, ফান্দা ভ্যালি, সোমেশ্বরী নদীর কাঠের সেতু, বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর একাডেমি সহ ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটন স্পটে ঈদের ছুটি কাটাতে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে এসেছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ।
কেউবা পাহাড়ে উঠছেন, কেউবা সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করছেন, কেউবা আদিবাসীদের সাথে কথা বলছেন আবার কেউবা প্রকৃতির কাছে গিয়ে ছবি তুলছেন। ঈদের দ্বিতীয় দিনে পর্যটকদের এমন ভীর বিগত দশ বছরেও কেউ দেখেনি। যেনো পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে সাদা মাটির পাহাড়।
এ নিয়ে সোমবার (২৩ মার্চ) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের ছুটি কাটাতে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে বেড়াতে, কেউ আসছেন বিয়ের দাওয়াতে আবার কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে সময় কাটাতে। সবাই এই স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফিবন্দিও হচ্ছেন। অন্যান্য স্পটগুলোর চেয়ে এবার সাদা মাটির পাহাড় এবং সোমেশ^রী নদীর স্বচ্ছ লেকে গোসল করতে সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভির হোসাইন বলেন, জিআই পন্য খ্যাত সাদামাটির পাহাড় দেখতে আমি প্রথমবার দুর্গাপুরে এসেছি। আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছি। রাস্তা আগের চেয়ে অনেক ভালো, পর্যটন এলাকার সব জায়গা গুলোই সুন্দর। যারা এখানে কখনো আসেনি, আমি বলবো তারা এখানে না আসলে এই সৌন্দর্য উপভোগ করার শান্তিটা বুঝতে পারবে না। সত্যি বলতে আমি অনেক খুশি হয়েছি।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে আসা আরেক পর্যটক তানজিলা আক্তার বলেন, সাদা মাটির পাহাড়ে ভালো লাগার মতো অনেক কিছুই আছে। ভিডিওতে যতটুকু সুন্দর লাগে বাস্তবে তারচেয়েও বেশি সুন্দর। তবে এতোসুন্দর জায়গা কিন্ত প্রচার নাই কেনো বুঝতে পারছিনা। ঈদ উপলক্ষে অনেক বেশি ভিড় তারপরেও ভালো লাগছে। আশ-পাশের যে খাবারের দোকান গুলো রয়েছে তার মানও ভালো এবং দাম অনেক কম। এককথায় বলতে সত্যিই চমৎকার একটা জায়গা সুসঙ্গ দুর্গাপুর। সবগুলো স্পটই যেনো সাজানো গুছানো।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, বছরের প্রায় সবময়ই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। তবে দুটি ঈদে এখানে পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিনত হয়। এইবার ছুটি বেশি তাই মানুষ ঘোরাফেরার সুযোগ পেয়েছে। আজকেও পর্যটকের ভিড় অনেক। আগামীকাল আরো বাড়বে মনে হচ্ছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার দর্শনার্থীদের ভিড় অনেক বেশি। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্গাপুরের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে আসছেন অনেক মানুষ। শুরু থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় গ্রাম পুলিশদের সর্বক্ষণ থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ যেনো সীমান্তের কাছে না যায় সে বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে।
কিউএনবি/আয়শা/২৫ মার্চ ২০২৬,/বিকাল ৩:৪৫