আন্তর্জাতিক ডেস্ক :তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আফগানিস্তানে প্রবেশ করা অধিকাংশ মাদক পাকিস্তান থেকে পাচার হয়ে আসে। মাদক পাচার বন্ধে পাকিস্তানকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তালেবান।
তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মতিন কানি দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে আফগানিস্তানে ঐতিহ্যবাহী ও কৃত্রিম-উভয় ধরনের মাদক প্রবেশ করছে। মাদক পাচার প্রতিরোধে তালেবান বাহিনী তাদের তৎপরতা জোরদার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান, তারা যেন পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যাতে দেশটি আফগানিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। তালেবান মুখপাত্রের দাবি, আফগানিস্তানে মাদক উৎপাদনের জন্য পোস্ত চাষ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। মাদকবিরোধী লড়াইয়ে তালেবান প্রশাসন নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেলুচিস্তানে পোস্ত চাষ বাড়ার খবর
তালেবানের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে পোস্ত চাষ বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে তালেবানের পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ করার পর বেলুচিস্তানের কয়েকটি এলাকা পোস্ত চাষের সম্প্রসারিত কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সর্বশেষ বক্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদন কমেছে ৯৫ শতাংশ
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের (ইউএনওডিসি) ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অবৈধ আফিমের প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদন করত আফগানিস্তান। তবে তালেবান সরকার পোস্ত চাষ নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে আফিম উৎপাদন ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আফগানিস্তানে পোস্ত চাষের জমির পরিমাণ ২০২২ সালের প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর থেকে কমে ২০২৫ সালে ১০ হাজার ২০০ হেক্টরে দাঁড়ায়। একই সময়ে আফিমের উৎপাদন ৬ হাজার ২০০ টন থেকে কমে প্রায় ২৯৬ টনে নেমে আসে। তবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে মজুত থাকা আফিম ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখতে পারে। সূত্র: আফগানিস্তান
কিউএনবি/অনিমা/২৯ অক্টোবর ২০২৬,/সকাল ১১:২১