উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে এনসিপি নেতা আবু সাঈদ জনির বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ জায়গা ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ আদালতে পৃথক পৃথক মামলা করেছেন। এদিকে উক্ত ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালতের আদেশে তদন্তকার্য মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নির্ধারন করেন বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার এলাকায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে বজরা ইউনিয়নের খামার বজরা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিউল আজমের কাছ থেকে ১৮ শতক জমি ক্রয়ের জন্য ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম মন্ডল রাজাসহ ১২ জন বায়নাপত্র করেন। এরপর তারা উক্ত ১৮ শতক জমি বুঝে নিয়ে ১২টি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি মসজিদ নির্মান করেন।
পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সালেই বাবুরহাট বাজার নামে একটি বাজার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও শফিকুল আজম উক্ত জমি দলিল না করে দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে সময়ক্ষেপন করতে থাকেন। এদিকে চলতি বছরের ৪ আগষ্ট উক্ত ১৮ শতক জমি শফিউল আজম গোপনে এনসিপির পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ন-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবু সাঈদ জনির কাছে বিক্রয় করেন।
এরপর বিএনপি নেতা রাজাসহ ১২ জন ভূক্তভোগী শফিউল আজমসহ দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বিষয়টি জানতে পেরে জমি গ্রহিতা আবু সাঈদ জনিও আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের মামলা আদালতে চলমান রয়েছে। এদিকে আদালতের আদেশে জমির দখল ও ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সহকারী কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। মঙ্গলবার সকালে উভয় পক্ষকে নিয়ে তদন্ত করার কথা থাকলেও ভূমি কর্মকর্তা অসুস্থ্য থাকায় তা হয়নি।
এ বিষয়ে বায়নাপত্র কারী রেজাউল করিম মন্ডল রাজা, ফয়েজ আহম্মেদ, নাজিম উদ্দিন ও নুর আলম বলেন, ২০০৯ সালে আমরা ১২ জন মিলে ১৮ শতক জমি ক্রয়ের জন্য শফিউল আজমের কাছে বায়নাপত্র করি। এরপর ১২জন অংশীদার মাটি ভরাট করে নিজ নিজ দোকান নির্মান করে ব্যবসা করে আসছি। ২০০৯ সালেই আমাদের ১২টি দোকান দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহিত হয়ে তাদের নিজস্ব জায়গায় আরও দোকান নির্মান করেন। বর্তমানে জায়গাটি বাবুর হাট বাজার নামে সবার কাছে পরিচিত।
পরবর্তীতে সরকারি ভাবে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আমাদের জমির মধ্যেই জনগনের সুবিধার জন্য মসজিদের পাশে একটি গণসৌচাগার নির্মান করা হয়। চলতি বছরের ৪ আগষ্ট এনসিপির নেতা আবু সাঈদ জনি আমাদের বায়নাকৃত ১৮ শতক জমি শফিউল আজমের কাছে গোপনে ক্রয় করেন। শফিউল আজম একাই উক্ত জমি বিক্রয় করতে পারবেন না জন্যই আমাদের দলিল করে দেননি। এ ঘটনায় আমরা নিরুপায় হয়ে ১২ জন অংশীদার আদালতে মামলা করি।
এনসিপির পেশাজীবীদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনালস অ্যালায়েন্স’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ন-আহ্বায়ক আবু সাঈদ জনি মুঠোফোনে বলেন, মালিক আমার কাছে জমি বিক্রয়ের পর ১৮ শতক জমি খারিজ করে নিয়েছি। পরবর্তীতে আমার সাইনবোর্ড ঝুলানো হলে তারা তা সরিয়ে ফেলেন। তারা দীর্ঘদিন থেকে ভাড়াকৃত জায়গায় ব্যবসা করছেন। বর্তমানে উক্ত ১৮ শতক জায়গা আমাকে দলিল করে দেয়ার পর তারা নিজেদের নামে উক্ত জমি বলে দাবী করছেন। এ জন্য আমি আদালতে মামলা করেছি।
এ বিষয়ে শফিউল আলমের সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা রুহুল আমীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার ভূমি এস. এম .মেহেদী হাসান জানান, বজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা অসুস্থ্য রয়েছেন মর্মে আমাকে মুঠোফোনে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। এ কারনে হয়তো তিনি ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ অক্টোবর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:১২