আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৯৩৬ সালে কেনটাকিতে ২০ হাজার মানুষের সামনে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রীতি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
এবার সামরিক বাহিনীর হাতে ১৩ সেনাকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
এ সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে- মৃত্যুদণ্ড কি ন্যায়বিচারের অংশ, নাকি তা জনসমক্ষে সহিংসতাকে বিনোদনে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে?
প্রায় এক শতাব্দী আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের একটি নদীতীরে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমেছিল। নারী, পুরুষ, এমনকি শিশুরাও এসেছিল এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির ফাঁসি দেখতে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি এক বৃদ্ধ শ্বেতাঙ্গ নারীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর তার কাছ থেকে মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছিলেন।
১৯৩৬ সালের ১৪ আগস্ট। কেনটাকির ওয়েন্সবোরো শহরে তখন প্রচণ্ড গরম। ঐতিহাসিকভাবে স্মরণীয় এক তাপপ্রবাহের মধ্যে শুক্রবারের ভোরে আয়োজন করা হয়েছিল ওই ফাঁসির কার্যক্রম। ভালো জায়গা নিশ্চিত করতে অনেকে আগের রাতেই ফাঁসির মঞ্চের কাছে অবস্থান নেন। আগের সন্ধ্যায় কেউ কেউ আয়োজন করেছিলেন ‘নেকটাই পার্টি’—ফাঁসির দড়িকে ঘিরে এক ধরনের উৎসব। পরদিন কিশোরেরা দর্শকদের কাছে পপকর্ন ও কোমল পানীয় বিক্রি করছিল।
ভোর পাঁচটায় ফাঁসি কার্যকরের সময় দর্শকের সংখ্যা আনুমানিক ২০ হাজারে পৌঁছায়।
ফাঁসির মঞ্চে ওঠেন রেইনি বেথিয়া। বয়স ২০-এর কোঠায়, অনাথ এই কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে ৭০ বছর বয়সী লিশিয়া এডওয়ার্ডসকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই অপরাধ স্বীকার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল।
ফাঁসির আগের দিন তার জন্য পরিবেশন করা হয়েছিল শেষ খাবার। মেনুতে ছিল ভাজা মুরগি, শূকরের মাংসের চপ, আলুভর্তা, আচার দেওয়া শসা, কর্নব্রেড, লেবুর পাই ও আইসক্রিম।
তবে ওই দিন শুধু ফাঁসি দেখতেই মানুষ জড়ো হয়নি। অনেকের আগ্রহ ছিল কথিত ‘নারী জল্লাদ’কে দেখার। স্থানীয় শেরিফের মৃত্যুর চার মাস পর তার বিধবা স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজ হাতে ফাঁসির লিভার টানতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত নিয়োগ করা জল্লাদরাই বেথিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসে ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে ওঠে। বেথিয়ার ফাঁসিকে ঘিরে জনতার উন্মাদনা ও উৎসবের মতো পরিবেশ কেনটাকির অনেক মানুষকে বিব্রত করে। এর প্রায় ১৮ মাস পর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিষিদ্ধ করেন।
এর আগেই জনসমক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রীতি থেকে সরে আসছিল যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্য। সমাজে শাস্তি ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিকে আরও ব্যক্তিগত ও নিয়ন্ত্রিত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
১৯৩৭ সালে মিসৌরিতে কয়েক শ’ মানুষের উপস্থিতিতে আরেকটি ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। সেটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের শেষ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের আয়োজন আর দেখা যায়নি।
কিন্তু প্রায় ৯০ বছর পর আবারও প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা এসেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এবার ঘটনাটি শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সামরিক বাহিনীর হাতে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
কী ঘোষণা দিয়েছেন হেগসেথ?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষণা দিয়েছেন, ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে নিরস্ত্র ১৩ সহকর্মী সেনাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড জনসমক্ষে সম্প্রচার করা হবে।
পেন্টাগন পরে জানায়, ফায়ারিং স্কোয়াড বা গুলিবর্ষণকারী দলের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
হেগসেথ বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য যে গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হয়, তা মানুষের বোঝা প্রয়োজন।”
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন অপরাধের পরিণতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হলে তা শাস্তির গুরুত্ব বোঝাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ঘোষণাটি ঘিরে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা কি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয়, নাকি এর মাধ্যমে মৃত্যুকে দর্শকের বিনোদনে পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে?
এ ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাস, জনমত এবং রাষ্ট্রীয় শাস্তির নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন কমছে যুক্তরাষ্ট্রে
কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল রাডেল দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে গবেষণা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘোষণা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, “আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে আবার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।”
রাডেলের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি জনসমর্থন দীর্ঘদিন ধরে কমছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সমর্থন ছিল প্রায় ৮০ শতাংশ। বর্তমানে তা কমে ৫২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “সমর্থন দ্রুত কমেছে, বিশেষ করে যখন প্যারোল ছাড়াই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিকল্পটি সামনে রাখা হয়।”
প্যারোল ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অর্থ হলো, নির্দিষ্ট আইনি ব্যতিক্রম ছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তির মুক্তি পাওয়ার সুযোগ থাকে না। মৃত্যুদণ্ডের বিকল্প হিসেবে এ ধরনের শাস্তি বিবেচনা করলে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি মানুষের সমর্থন কমে আসে বলে রাডেল মনে করেন।
তবে মৃত্যুদণ্ডের প্রতি সামগ্রিক সমর্থনের পরিসংখ্যান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জনমত কী, তা নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় না। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এ সম্প্রচার দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আগ্রহী হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ডকে বিনোদনে পরিণত করা হচ্ছে
রাডেলের মতে, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা শাস্তির উদ্দেশ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, “মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে যুক্তি এখন বিনোদনে পরিণত হচ্ছে- পপকর্ন নিয়ে আসুন, বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানান।”
তার এই মন্তব্যে ১৯৩৬ সালে বেথিয়ার ফাঁসিকে ঘিরে জনতার উৎসবমুখর আচরণের সঙ্গে বর্তমান সময়ের সম্ভাব্য সরাসরি সম্প্রচারের তুলনা উঠে এসেছে। সে সময় হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিল; এবার প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের কাছে মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য পৌঁছে যেতে পারে।
বেথিয়ার ফাঁসি নিয়ে গত বছর প্রকাশিত একটি বইয়ের লেখক সোনিয়া লিয়াও এ ঘোষণায় গভীর আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ১৯৩৬ সালের ঘটনাটি ছিল ‘নিষ্ঠুরতার এক মেলা’।
লিয়া জানান, তার দাদা-দাদি তখন সদ্য বিবাহিত কিশোর-কিশোরী ছিলেন এবং ফাঁসি দেখতে যাওয়া জনতার মধ্যে ছিলেন। ২০০২ সালে তার দাদি মারা যাওয়ার পর দাদির লেখা একটি বিবরণ পড়ে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। সেই বিবরণে বলা হয়েছিল, তারা এত কাছ থেকে ফাঁসি দেখেছিলেন যে বেথিয়ার ঘাড় ভাঙার শব্দও শুনতে পেয়েছিলেন।
পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ গবেষণায় লিয়া বুঝতে পারেন, ওই ফাঁসির স্মৃতি কেনটাকির বহু মানুষকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতাম, আমরা এই ধরনের ভয়াবহতার অধ্যায় পেছনে ফেলে এসেছি।” তার মতে, ইরান, উত্তর কোরিয়া ও আফগানিস্তানের মতো অল্প কয়েকটি দেশে এ ধরনের নিষ্ঠুর প্রকাশ্য শাস্তির চর্চা দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রও কি এখন এমন রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হতে চাইছে- এমন প্রশ্ন তুলে লিয়া বলেন, প্রযুক্তির সাহায্যে এ ধরনের দৃশ্য আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণ কি সিদ্ধান্তটির পেছনে ভূমিকা রেখেছে?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা এ ধরনের ঘোষণার ক্ষেত্র তৈরি করে থাকতে পারে বলে মনে করেন ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক কার্ট গ্রে।
তার মতে, কিছু মার্কিন নাগরিক সহিংস শাস্তি দেখতে আগ্রহী হতে পারেন। তবে অনেকেই তা চান না। আবার কেউ কেউ এমন ঘটনার প্রতি এতটাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে বিষয়টিকে আর বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন না।
গ্রে বলেন, “এর মানে এই নয় যে তারা প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেখে উল্লাস করছেন। বরং তাদের প্রতিক্রিয়া হতে পারে- আচ্ছা, তাহলে এখন আমরা এমন জায়গায় এসে পৌঁছেছি।”
অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে মানুষের নীরবতা বা উদাসীনতাকে সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সহিংস বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি জনসাধারণের প্রতিক্রিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
তবে অন্য গবেষণার ফলাফল বলছে, হেগসেথ ও ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনমত সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে থাকতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলে ক্যাম্পাসে সহিংসতা প্রতিরোধ গবেষণা কর্মসূচির পরিচালক গ্যারেন উইন্টিমিউট বলেন, জরিপের তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে সহিংসতার প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে আসার ইঙ্গিত দেয়।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলনের প্রধানও ওই ঘোষণাকে ‘বর্বর’ বলে অভিহিত করেছেন। উইন্টিমিউটের মতে, এ বক্তব্য বহু মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায়।
তিনি বলেন, “প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আমাদের পরিচয় নয়। একটি দেশ হিসেবে আমরা যে আদর্শে পৌঁছাতে চাই, এটি তা নয়।”
ট্রাম্পের সমর্থন, দেখবেন না ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখবেন না। ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বী ভ্যান্সের এ অবস্থান ঘোষণাটি ঘিরে বিতর্কে আরেকটি মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে সরাসরি সম্প্রচার দেখবেন কি না- সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও সিদ্ধান্তটিতে তার অনুমোদন থাকার কথা নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “সে কীভাবে মারা যায়, তা নিয়ে আমার সত্যিই কিছু যায় আসে না।” তিনি আরও বলেন, “আমার মনে হয়, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড একটি যথার্থ শাস্তি।”
ট্রাম্পের বক্তব্যে দণ্ডিত ব্যক্তির অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট হয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা উচিত কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ন্যায়বিচার, প্রতিরোধ নাকি জনসমক্ষে শাস্তির প্রদর্শনী?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাস দেখায়, এ ধরনের আয়োজন একসময় জনসমাগম ও কৌতূহলের বিষয় হলেও পরে তা সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ১৯৩৬ সালে বেথিয়ার ফাঁসিকে ঘিরে মানুষের ভিড় এবং উৎসবের মতো পরিবেশ শেষ পর্যন্ত কেনটাকিতে প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করার পেছনে ভূমিকা রাখে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল প্রশ্ন হলো, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করলে অপরাধ প্রতিরোধ বা শাস্তির গুরুত্ব বোঝানোর উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হবে। একই সঙ্গে এমন সম্প্রচার মানুষের মধ্যে সহিংসতার প্রতি আকর্ষণ বাড়াবে, নাকি রাষ্ট্রীয় শাস্তিকে বিনোদনের উপকরণে পরিণত করবে- তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে যুক্তি সাধারণত গুরুতর অপরাধের কঠোর শাস্তি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, এর বিরোধীরা মানবিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা এবং শাস্তির প্রকাশ্য প্রদর্শনীর সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণা সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিরিয়ে এনেছে। প্রায় এক শতাব্দী আগে যেখানে হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসি দেখতে ঘটনাস্থলে যেতে হয়েছিল, এখন একটি সম্প্রচার মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। ফলে প্রশ্নটি শুধু মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা বা যথার্থতা নিয়ে নয়; বরং রাষ্ট্র কীভাবে শাস্তি প্রদর্শন করবে এবং সমাজ সহিংসতার সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলবে, তা নিয়েও। সূত্র: বিবিসি
কিউএনবি/অনিমা/১০ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৩:৫৮