আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ- দুটিরই শিগগির নিষ্পত্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিউইয়র্কের সিরাকিউজে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, যুদ্ধ দুটি হয় আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন।
ইরান যুদ্ধের অবসান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “যেকোনওভাবেই হোক, খুব দ্রুত এর সমাধান হবে।”
একই সঙ্গে তেহরানের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ইরানকে হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবকিছু মেনে নিতে হবে, নয়তো দেশটির অস্তিত্ব আর থাকবে না।
ট্রাম্পের দাবি, উভয় সংঘাতের সমাধানের প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। তবে তার বক্তব্যে যুদ্ধ দুটি কীভাবে, ঠিক কবে নাগাদ কিংবা কোন শর্তে শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইরানের অস্তিত্ব নিয়ে হুঁশিয়ারি
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যে ছিল কঠোর হুঁশিয়ারি। তিনি বলেন, “একভাবে হোক বা অন্যভাবে- ইরান যুদ্ধের অবসান খুব দ্রুত হবে। হয় তারা আমাদের সবকিছু দেবে, নয়তো তাদের আর কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।”
তবে ‘সবকিছু’ বলতে ইরানকে ঠিক কোন কোন শর্ত মেনে নিতে হবে, সে বিষয়ে সমাবেশে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বক্তব্য থেকে যুদ্ধের অবসানের নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা সম্ভাব্য চুক্তির শর্তও স্পষ্ট হয়নি।
দুই যুদ্ধের সমাধান নিয়ে আশাবাদ
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, উভয় সংঘাতের নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া ‘দ্রুতগতিতে’ এগোচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক কিংবা সামরিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে- দুই যুদ্ধেরই অবসান ঘটাতে চান তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদ সত্ত্বেও যুদ্ধ দুটি শেষ করার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে- এমন তথ্য তার বক্তব্যে উঠে আসেনি। ফলে তার মন্তব্যকে যুদ্ধের অবসানসংক্রান্ত প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও ক্ষোভ
সিরাকিউজের সমাবেশে ট্রাম্পের বক্তব্যের আরেকটি বিষয় ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়া নিয়ে তার অসন্তোষ। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান নাভি পিল্লাইকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকেই এই পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল।
ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, তিনি আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তবে যুদ্ধ দুটি নিয়ে তার সর্বশেষ মন্তব্যের পরও কবে নাগাদ এবং কী শর্তে সংঘাতের অবসান ঘটবে, তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। সূত্র: আল-জাজিরা
কিউএনবি/অনিমা/১০ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৩:০৮