আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে উচ্চমূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করতে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও সফল আলোচনার পর রাশিয়া থেকে অবিলম্বে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মূলত ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তার প্রত্যক্ষ প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতিতে জ্বালানি তেলের দাম মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও বাজারকে এই সংকট থেকে স্বস্তি দিতেই ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে এই সমঝোতা হয়েছে।
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় প্রথম ধাপে অবিলম্বে মার্কিন ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে রাশিয়া। শুধু তাই নয়, এরপর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মোট ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে তারা। এই বিশাল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। পরবর্তীতে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম দ্রুত কমবে। তবে সরবরাহের ঘোষণা বাস্তবে বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্ভর করবে চালান পৌঁছানোর সময়, পরিমাণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রশ্ন
এই সমঝোতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মস্কোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছে ওয়াশিংটন। অথচ এখন জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আনার উদ্যোগ সেই নীতির সঙ্গে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী,রাশিয়ার ডিজেল বিশ্ববাজারে সরবরাহের সুযোগ দিতে সাময়িক ছাড় ঘোষণা করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। এই সিদ্ধান্তের ফলে মস্কোর জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকেরা। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুক্তি হলো, বাজারে সরবরাহ বাড়লে ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমতে পারে।
মূলত ডিজেলের দাম কমানোর লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার পথে হাঁটছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা নীতিতে পরিবর্তন এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া সামলানোও ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা
কিউএনবি/অনিমা/০৯ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১১:০২