ডেস্ক নিউজ : গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত ডিমও এখন অনেকের নাগালের বাইরে। রাজধানীর খুচরা বাজারে গতকাল ব্রয়লার মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা, সাদা ডিম ১৫০ টাকা এবং আকারে কিছুটা ভালো-মাঝারি সাইজের ডিম ১৮০ টাকা পর্যন্ত। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ডজনপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১০ টাকা। ফলে একটি ডিম কিনতে এখন ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ টাকা।
মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ডিমের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জুলাইয়ের শুরুতে রাজধানীর বাজারে ডিমের ডজন ছিল ১১০-১২০ টাকা। এরপর জুলাইয়ে বৃষ্টি-বন্যা ও সরবরাহ সংকটে দাম বাড়তে থাকে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডজনপ্রতি দাম ১৬৫-১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। পরে কিছুটা কমলেও দাম আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। তবে আগস্টের মাঝামাঝিতে উৎপাদন স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো সিন্ডিকেটে বন্দি।
এই সিন্ডিকেট খামার থেকে পাইকারি বাজার পর্যন্ত ধাপে ধাপে সক্রিয়। এতে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ডজন বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০-১৬০ টাকা। গতকাল পর্যন্ত তা ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪৪০ কোটি ৬৫ লাখ। পোলট্রি শিল্প সংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৮৫০ কোটি ডিম।
তারপরও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় দাম বাড়ছে। খামারিদের দাবি, দীর্ঘদিন লোকসানে থাকায় অনেক খামার উৎপাদন কমিয়েছে বা বন্ধ করেছে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত গরমে মুরগির ডিম দেওয়ার হার কমে যাওয়া, বন্যা-বৃষ্টিতে খামার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন উদ্বৃত্ত থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে রাজধানীসহ বড় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দ্রুত দাম বাড়ছে। খিলগাঁও বাজারের ডিম বিক্রেতা মাসুম হোসেন বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারেই ডজনপ্রতি ডিমের দাম প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি।
এদিকে খামারি পর্যায় থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতেও বাড়ছে দামের ব্যবধান। খামারিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজনে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। ফলে উৎপাদক ন্যায্য দাম না পেলেও ভোক্তাকে বেশি দাম দিতে হচ্ছে। ডিমের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক হাসিনা আক্তার বলেন, আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন পরিবারের সবাইকে ডিম খাওয়ানো যেত। এখন ডজনপ্রতি এত দাম যে হিসাব করে কিনতে হচ্ছে।
স্বস্তি ফেরেনি বাজারে : রাজধানীর বাজারে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। ডিম-মুরগির দাম কমেনি। মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বেশির ভাগ সবজি ৬০-৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে পিঁয়াজ, আদা, রসুন ও জিরার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দামও ক্রেতাদের চাপে রাখছে। গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১১, মুসলিম কাঁচাবাজার ও কালশী বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, বাজারে দেশি মৌসুমি সবজির সরবরাহ রয়েছে। তবে পাইকারি পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। ফলে সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে না। বাজারে পটোল ৬০-৭০, ঢ্যাঁড়শ ৬০-৭০, ঝিঙা ৬০, চিচিঙ্গা ৬০-৮০ ও ধুন্ধল ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে বেগুন ৯০-১০০, বরবটি ১০০, করলা ও কাঁকরোল ৭০-৮০ এবং আলু ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা হলেও পেঁপে মিলছে ৩০-৪০ টাকা কেজিতে। এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০, কচুমুখী ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
পিঁয়াজ ৫৫, দেশি আদা ১৭০, চায়না রসুন ১৯০, দেশি রসুন ১৬০ টাকা কেজি, জিরা ৮০০-১০০০ এবং ধনিয়া ৩৫০-৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া চিকন মসুর ১৬০, মোটা মসুর ১০০ ও মাষকলাই ১৮০ টাকা, নাজিরশাইল ৮৫-৯০, পাইজাম ৫৮-৬৫, স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৫৫-৫৮ টাকা কেজি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৮০-৯০ এবং খোলা সুগন্ধি চাল ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি ও ডিমের বাজারেও দাম কমার লক্ষণ নেই।
কালশী বাজারে ব্রয়লার ১৮০-১৯০, সোনালি ৩৩০-৩৫০ এবং লাল লেয়ার ৩৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে রুই ও কাতলা ৩২০-৩৫০, পাঙাশ ২০০-২২০, চাষের কই ২০০-২৪০ ও তেলাপিয়া ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাবদা ৪০০-৪৫০, টেংরা ৫৫০-৬০০, শিং ও মাগুর ৬০০-৭০০, শোল ৭০০-৮০০ এবং বিভিন্ন জাতের চিংড়ি ৬৫০-৮৫০ টাকা কেজি। আকার ও মানভেদে ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০-২ হাজার টাকা কেজি।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪