ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে ডুবোযানটি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ Dive-LD মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পানির নিচে থাকা কেবল ও পাইপলাইনের মতো অবকাঠামো পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা যায়।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস নেভি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নতমানের চালকবিহীন সাবমেরিন আটক করা হয়েছে। ডুবোযানটিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।
তবে ইরানের এই দাবির বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। চলমান সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ওই ড্রোনটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরিপ চালাচ্ছিল বলে জানান তিনি।
পেন্টাগনের দাবি, ড্রোনটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছিল না। একই সঙ্গে এতে গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
অ্যান্ডুরিলও তাদের একটি Dive-LD হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে বড় ধরনের ক্ষতি হিসেবে দেখছে না।
কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানান, Dive-LD এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করতে পারে। প্রয়োজন হলে যানটি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও এর নকশার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক নজরদারিতে বাড়ছে চালকবিহীন ড্রোনের ব্যবহার
সমুদ্রপথে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ক্রমেই চালকবিহীন নৌযানের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
এর অন্যতম কারণ হলো, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নাবিকদের সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেই বিশাল সমুদ্র এলাকায় নজরদারি চালানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রচলিত সামরিক প্ল্যাটফর্মের তুলনায় তুলনামূলক কম খরচে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায়।
অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, Dive-LD একবার ঘাঁটিতে ফিরে না এসেও টানা ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে। ডুবোযানটি সর্বোচ্চ প্রায় ৬ হাজার মিটার বা ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরতায় যেতে সক্ষম।
২০২৪ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিটি Dive-LD ইউনিটের আনুমানিক মূল্য ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। ফলে এই অঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক ড্রোন আটক হওয়ার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স