দুদক সচিব বলেন, কমিশন নিজস্ব আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, সেটিও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। কোনো ব্যক্তি অভিযোগের কারণে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি তার বক্তব্য প্রকাশ করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধান শুরুর সময় দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সাইদুর রহমান খান বলেন, সেদিন ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘স্লিপ অব টাং’ হয়েছিল।
এদিকে একই দিন সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার অভিযোগ, দুর্নীতির প্রকৃত অনুসন্ধানের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে তাকে হয়রানি ও চাপের মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের দাবি, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে সেগুলো ভিত্তিহীন। তিনি মনে করেন, অনুসন্ধানের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করে এক ধরনের ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো ও দমন করার পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অন্য তিন ব্যক্তি হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
অনুসন্ধান শুরুর পরের দিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে বিভিন্ন নথি চায় দুদক। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে বদলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র রয়েছে।
দুদক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর, বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মতো বিষয় রয়েছে।
এদিকে অনুসন্ধান সংক্রান্ত তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তার সম্মানহানি হয়েছে।