সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের এক সংসদ সদস্য জানতে চান, স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ এবং ৪৬টি পিলারে ফাটল শনাক্ত হওয়ার তথ্য সত্য কি না। এসব সমস্যা সমাধান এবং যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা-ও জানতে চান তিনি।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডের সবগুলো ক্রিটিক্যাল নয়। এর মধ্যে ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত। স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল শনাক্ত হওয়ার তথ্যও রয়েছে।
মেট্রোরেলের ঝুঁকি নিরূপণ এবং মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) গত ১৬ জুলাই ‘সেফটি অডিট রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। কমিটি অডিট প্রতিবেদনের তাৎক্ষণিক সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যেসব পিয়ারে বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, এমন ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে। ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত ২৭টি বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এসব প্যাড প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেট্রোরেল স্থাপনার স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক পরিমাপ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে এসব গেজ স্থাপনের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।