সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

৭২ বছর বয়সে নতুন করে বাজিমাত মিঠুন চক্রবর্তীর

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫১ Time View

বিনোদন ডেস্ক : বলিউডে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন মিঠুন চক্রবর্তী। দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতার সংখ্যাও কম নয়। প্রায় ১৮০টি সিনেমা বক্স অফিসে ফ্লপ হয়েছে তার। তবে এই ব্যর্থতার রেকর্ডও শেষ পর্যন্ত মুছে দিতে পারেনি তার জনপ্রিয়তা।

বরং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন এই অভিনেতা। ৭২ বছর বয়সে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ সিনেমার মাধ্যমে আবারও বড় বক্স অফিস সাফল্যের অংশ হন তিনি। সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে। এটিই মিঠুনের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় মিঠুনের। অভিষেক সিনেমাতেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি।

ফলে প্রথম সিনেমাতেই নিজের অভিনয় প্রতিভার জানান দেন এই অভিনেতা। এরপর আশির দশকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে তার। ‘শওকিন’ও ‘অশান্তি’র মতো সিনেমার পর ১৯৮২ সালে আসে ‘ডিসকো ড্যান্সার’। এই সিনেমাই মিঠুনকে ভারতের ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।

‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর সাফল্য ছিল অন্য মাত্রার। ১৯৮৫ সালে সিনেমাটি রাশিয়ায় মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি রুপি আয় করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সময় এটি ভারতের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ডও দখল করেছিল।

‘ডিসকো ড্যান্সার’-এর সাফল্যের পর মিঠুন নিয়মিত সিনেমায় কাজ করতে থাকেন। তবে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ের পর তিনি সংখ্যার দিক থেকে অনেক বেশি সিনেমায় অভিনয় করতে শুরু করেন।
অনেক সময় বছরে ৮ থেকে ১২টি সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। নব্বইয়ের দশকে তরুণ অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মিঠুন কম বাজেটের অ্যাকশন সিনেমায় বেশি কাজ করেন। ওই দশকে প্রায় ১০০টি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এর বড় একটি অংশ বক্স অফিসে সফল হয়নি।
 হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিঠুনের শেষ একক নায়ক হিসেবে সফল সিনেমা ছিল ১৯৯৫ সালের ‘রাবণ রাজ’। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে মূলত পার্শ্বচরিত্রে দেখা যায়।
পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে মিঠুন ২৭০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হলেও এর মধ্যে প্রায় ১৮০টি সিনেমা ফ্লপ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি সিনেমাকে বক্স অফিস ‘ডিজাস্টার’ হিসেবে ধরা হয়েছে।
এমন রেকর্ড ভারতীয় প্রধান অভিনেতাদের মধ্যে অত্যন্ত বিরল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মেন্দ্র ও জিতেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো অভিনেতার ফ্লপ সিনেমার সংখ্যা মিঠুনের কাছাকাছিও নয়।২০০০ সালের পর মিঠুন ধীরে ধীরে পার্শ্বচরিত্রে বেশি মনোযোগ দেন। বড় বাজেটের বিভিন্ন সিনেমাতেও দেখা যায় তাকে।
তবে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন আসে ২০২২ সালে ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ দিয়ে। বিবেক অগ্নিহোত্রীর পরিচালনায় নির্মিত সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠুন।সিনেমাটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া ফেলে এবং বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি আয় করে। তখন মিঠুনের বয়স ছিল ৭২ বছর।
ফলে যে অভিনেতার ক্যারিয়ারে রয়েছে প্রায় ১৮০টি ফ্লপ সিনেমার রেকর্ড, তিনিই আবার ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে এসে এমন একটি বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের অংশ হয়েছেন। এ কারণেই মিঠুন চক্রবর্তীর দীর্ঘ অভিনয়জীবন বলিউডের অন্যতম ব্যতিক্রমী ক্যারিয়ার হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৩৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit