আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ করার পর মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ কুয়েতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বৃহস্পতিবার কুয়েতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ আল-সাবাহ ইসলামাবাদে যান। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফের সঙ্গে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো। পাকিস্তান ও কুয়েত—উভয় দেশই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েত।
অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে পাকিস্তান। কুয়েতের সঙ্গে নতুন এ চুক্তির লক্ষ্য হলো অপারেশনাল সমন্বয় জোরদার করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা আরও উন্নত করা। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে।
দুই দেশের মধ্যে প্রথম ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি হয় ২০২৩ সালের জুনে। ওই চুক্তির মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রতিরক্ষা শিল্প ও সামরিক প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতিমালা ও সহযোগিতা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তবে নতুন চুক্তিটি ওই ফ্রেমওয়ার্কের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে এর পরিধি আরও বিস্তারের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও নতুন চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলিত সামরিক সহযোগিতার আওতাভুক্ত, তবে এর সময়কাল নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এই চুক্তি সামনে এসেছে।
এমন এক সময়ে এই অগ্রগতি ঘটল, যখন উপসাগরীয় অঞ্চল তার নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সহযোগিতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন মেরুকরণও দেখা যাচ্ছে।
সহযোগিতার চুক্তি নাকি যৌথ প্রতিরক্ষা?
কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিটি আপাতদৃষ্টিতে কোনো সামরিক জোট বা পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। এর আওতায় দুই দেশের কোনো একটি দেশ হুমকি বা হামলার শিকার হলে অপর দেশকে বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে—এমন কোনো শর্ত এতে নেই।
চুক্তিটির মূল গুরুত্ব সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাত্রা উন্নত করার ওপর।
পাকিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন চুক্তিটি ‘মক্কা চুক্তি’ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ, মক্কা চুক্তিটি মূলত একটি সম্মিলিত নিরাপত্তা চুক্তি।’
মোহাম্মদ আলী বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মক্কা চুক্তিটি অনেক বিস্তৃত ও সমন্বিত। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সম্ভাব্য যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে।’
এর বিপরীতে পাকিস্তানি এই বিশেষজ্ঞ কুয়েত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটিকে কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করেননি। তার মতে, কুয়েতের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের এমন কোনো নিরাপত্তা দায়বদ্ধতা নেই যে দেশটির হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে হবে বা তাকে সামরিকভাবে রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মূলত কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে, তাদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে সহায়তা করছি। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও শক্তিশালী করতে পারবে।’
এ বিষয়ে কুয়েতের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ খালেদ আল-গানিম বিবিসিকে বলেন, ‘পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার চুক্তিটি কার্যত সম্প্রসারণযোগ্য। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরির ভিত্তি হিসেবে এই চুক্তি কাজ করতে পারে।’
তবে তার মতে, ‘এই সম্প্রসারণের অর্থ এই নয় যে, দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে কোনো প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা বা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত কোনো পথ রয়েছে।’
মক্কা চুক্তির পর নতুন চুক্তির সময়ের গুরুত্ব
মক্কা চুক্তির কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় বিষয়টি বাড়তি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অন্যতম কারণ হলো অঞ্চলটির ক্রমবর্ধমান জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক সংঘাত, সমুদ্রপথে উত্তেজনা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধের প্রভাব।
এ কারণে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার নতুন চুক্তিকে শুধু দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং নিরাপত্তা অংশীদারত্বকে আরও বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত করার যে বৃহত্তর প্রবণতা উপসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে, এই চুক্তিকেও সেই প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা যেতে পারে।
এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার আগ্রহেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে এ অঞ্চলে যেসব পরিবর্তন ঘটেছে, তার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কুয়েতের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ খালেদ আল-গানিম এই বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নন যে, কুয়েত পরোক্ষভাবে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা ও কাঠামোর অংশ হয়ে গেছে, কিংবা কুয়েতের সাম্প্রতিক এই প্রটোকল সরাসরি মক্কা চুক্তির ফলাফল।
তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সাম্প্রতিক অগ্রগতি শুধু কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।’
কুয়েতের এখন পাকিস্তানকে কেন প্রয়োজন?
কুয়েতের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা ইসলামী বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক শক্তির জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে। পাকিস্তানের এমন কিছু বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশটিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আকর্ষণীয় অংশীদারে পরিণত করেছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন উপায়ে এসব দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখে আসছে পাকিস্তান। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তানি সামরিক পরামর্শক ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি।
এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের মতো কুয়েতও পরিবর্তিত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা ও সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যে নতুন চুক্তি এবং পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ প্রায় একই সময়ে সামনে আসার বিষয়টি ইঙ্গিত করতে পারে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে এবং দেশটির উপস্থিতিও বাড়ছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলীর মতে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের কাছে পাকিস্তানের ভূমিকার মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি বেড়েছে।’
তার মতে, ‘পাকিস্তান উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশের আস্থা অর্জন করেছে। এসব দেশ পাকিস্তানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহী।’
অন্যদিকে কুয়েতের ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুল্লাহ খালেদ আল-গানিম বলেন, ‘সঠিক প্রশ্নটি আসলে এটা নয় যে, পাকিস্তান কি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে? বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, পাকিস্তান কি ধীরে ধীরে এমন একটি দেশের অবস্থানে পৌঁছাচ্ছে, যে উপসাগরীয় অঞ্চল ও এর আশপাশে গড়ে ওঠা ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী বা গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে ভূমিকা রাখবে?’
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অবশ্যই এমন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে—এমনটা বলার সময় এখনো আসেনি।
মার্কিন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরতা কি কমছে?
এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা অংশীদারত্বের বিকল্প—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় না। উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন অংশীদারত্ব এখনো একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি ইঙ্গিত করে যে, ক্রমবর্ধমান জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর পরিবর্তিত ভারসাম্য ও প্রবণতার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিকল্প ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে আগ্রহী।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘অঞ্চলটির বিদ্যমান জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা বিবেচনায় নিয়ে কুয়েতের নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও বহুমুখী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তার মতে, ‘কুয়েতের নেতৃত্ব মনে করে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি রয়েছে। তাই বিভিন্ন প্রতিরক্ষা অংশীদারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখা তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।’
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ খালেদ আল-গানিম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখনো কুয়েত ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক অংশ।’
তার মতে, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার অর্থ ওয়াশিংটন থেকে দূরে সরে যাওয়া কিংবা পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী হয়ে যাওয়া—এমনটা বলার মতো যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই।’
আল-গানিম বলেন, ‘কুয়েত তার প্রধান নিরাপত্তা অংশীদারকে ধরে রেখেই অন্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিধি বাড়াতে পারে। এর ফলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কুয়েতের কৌশলগত নমনীয়তা বাড়বে।’
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও বাড়ছে পাকিস্তানের ভূমিকা
এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। উপসাগরীয় অঞ্চলে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও ভূমিকা এমন এক সময়ে সামনে আসছে, যখন ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইসলামাবাদ। এ কারণে অন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের তুলনায় পাকিস্তান একটি অনন্য ও বিশেষ অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
একইভাবে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনার পথ খোলা রাখার সক্ষমতা পাকিস্তানকে উপসাগরীয় কিছু দেশের কাছে নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
এমন এক সময়ে, যখন কোনো একটি পক্ষ পুরো অঞ্চলের জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে কি না—এ নিয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন বাড়ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের একটি বহুমুখী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে স্পষ্টভাবেই ঝুঁকছে।
এই কারণে পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার চুক্তিকে শুধু একটি সাধারণ সামরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তার ভারসাম্য নতুন করে গড়ে তোলা ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় একটি নতুন পর্যায়ের ইঙ্গিত হতে পারে।
এই প্রক্রিয়ায় আঞ্চলিক অংশীদাররা ধীরে ধীরে এমন একটি ক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে, যেখানে কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রাধান্য ছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিদ্যমান প্রচলিত অংশীদারত্বগুলো তারা পরিত্যাগ করছে।
বিবিসি ও ডন উর্দু অবলম্বনে
কিউএনবি/আয়শা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৪০