বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর গবেষণা-উদ্ভাবন মেলা আয়োজনের উদ্যোগ ঢাবি থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য-উপাত্ত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কাছে হস্তান্তর পেশাদার গণমাধ্যম কার্যক্রম এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ জোরদারে ঢাবি ও ঢাকা ডক্ল্যাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক শাই হোপের সেঞ্চুরিতে উইন্ডিজের রেকর্ড আটোয়ারীতে আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার যাত্রী কুড়িগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু,বাবা গুরুতর আহত আটোয়ারীতে হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত আদালতের নির্দেশে জাল দলিলের প্রতিবেদন দিয়ে আক্রোশের শিকার সাব-রেজিস্ট্রার নেত্রকোণায় বিএনপি নেতা খলিলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হাসনাত আবদুল্লাহ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি।

হাসনাত বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় চাপিয়ে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে দুইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
এর আগে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে তার সংসদীয় বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ করে এবং ক্ষমা না চাইলে জেলায় এনসিপির কর্মসূচি প্রতিহতের ঘোষণা দেয়। ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তা‌তে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানু‌ষের সঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ কর‌ছি।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্প্রতি বলেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা, সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতোই। এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় আস‌লে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সেখানকার আলেমওলা‌দের ওপর দিয়েছেন। তা‌দের ভাবমূর্তি বিশ্বের সামনে ক্ষুণ্ণ করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পু‌লি‌শের কনসার্ট বন্ধ হওয়ার খবর মিডিয়ায় যেভাবে এসে‌ছিল, বাস্তব চিত্র তা থে‌কে আলাদা ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কার‌ণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী‌দের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘ‌টে। তাই শিক্ষার্থীরা সাউন্ড কমাতে বলে। এ নি‌য়ে পু‌লিশ ও শিক্ষার্থী‌দের কথা কাটাকাটি থে‌কে পরবর্তী ঘটনা ঘ‌টে। কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন পু‌লি‌শের লাঠিপেটায়।
মিডিয়া ভিন্নভাবে উপস্থাপন করলেও, ঘটনাপ্রবাহ থে‌কে এটা স্পষ্ট মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ ক‌রে দেয়নি। তারা শুধু শব্দ কমা‌তে ব‌লে‌ছি‌লেন। এর মা‌নে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়, যেমনটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব‌লে‌ছি‌লেন। যার মাধ্যমে তি‌নি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে সম্পর্কে ভুল বার্তা দি‌য়ে‌ছি‌লেন, তা‌দের‌কে ছোট ক‌রে‌ছিলেন।
অন্যদিকে নৌকাবাইচের বিষয়টিতে স্থান নিয়ে আমার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছে। সি‌লেটের জায়গায় ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়া ব‌লে ফে‌লি। এ ত্রুটিতে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে, তা‌তে আমি বিব্রত। অনাকাঙ্ক্ষিত প‌রি‌স্থি‌তির জন্য দুঃখ প্রকাশ কর‌ছি।
যদিও পাশাপাশি মূল ঘটনা কী ছিল, মিডিয়া কী ফ্রেমিং করেছে, সেটা নিয়ে সংসদে কথা বলা আমার উচিত ছিল; কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ ছিল না। সবশেষে একটি কথা আমি পুনর্ব্যক্ত করছি- আমি এবং আমার দল আমরা জুলাইয়ের আদর্শকে ধারণ করি এবং সকল নীতি, সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের উপর নির্ভর করেই নিতে চাই।

জুলাই একটা সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সকল মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হবে, এবং কেউ কারো মত বা দৃষ্টিভঙ্গি আরেকজনের উপর চাপিয়ে দেবে না। বিতর্ক থাকবে, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকবে, কিন্তু কেউ কাউকে জোর করবে না, তার মতামতকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মতামত হিসেবে গ্রহণ করতে। জুলাই এই common minimum ground-এর ঐক্যের প্রতীক।

এই আদর্শের প্রতি আমি কমিটেড ছিলাম, আছি, থাকব। এবং তার ভিত্তিতেই আমি বিশ্বাস করি যে, যদি কোনও গ্রুপ বা ব্যক্তি যদি অন্যায়ভাবে কারও উপর জোর খাটান, কাউকে বাধ্য করেন নিজের মতামতকে চাপিয়ে দিতে, তাহলে সরকারের দায়িত্ব সেটাকে প্রতিহত করা, সকল মানুষের সমান অধিকারকে নিশ্চিত করা। সরকার যখন সেই দায়িত্ব পালনে দ্বিধা করে, অস্বীকৃতি জানায়, তখন দেশের আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ভেঙে পড়ে, সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়।
আমি এই কথাটাই সংসদে বলতে চেয়েছি। এই বাংলাদেশ সবার- এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সকল ধর্মের, মতের মিলনস্থল আমার এই বাংলাদেশ। যার যেটা পছন্দ হবে, সে সেটায় যাবে, অংশ নেবে, যার যেটা পছন্দ হবে না, সে সেটায় যাবে না। আর সরকার এইটুকু নিশ্চিত করবে, কেউ যেন আরেকজনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, এমন কিছু করতে না পারে।

আজকে সরকার সেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না, এবং তার ফলে সমতার যে বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাই ছিল ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের আন্দোলন। জুলাই ছিল মানুষকে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আন্দোলন, সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার আন্দোলন, যা বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করবে। আমাদের চেষ্টা সেই বাংলাদেশ গড়বার জন্য, সে চেষ্টাই আমরা করছি এবং করে যাব।’

পরবর্তীকালে নিজের পোস্টের একটি কমেন্টেও প্রায় একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি লিখেছেন, ‘এই বাংলাদেশ সবার- এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সংগীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে। সব ধর্মের, মতের মিলনস্থল আমার এই বাংলাদেশ।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/২৯ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৫:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit