নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণা সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ খলিলুর রহমানকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা বিএনপির সভাপতি ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক (এম.পি) ও সাধারণ সম্পাদক ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী (এম.পি)। মঙ্গলবার (১৩অক্টোবর) বিকেলের দিকে নেত্রকোণা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী (এম.পি) স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আপনার দেওয়া বক্তব্য দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, যা দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী। এজন্য আপনার বিরুদ্ধে কেন দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না মর্মে আগামী ০৩(তিন) দিনের মধ্যে নেত্রকোণা জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক (এম.পি) এবং সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী (এম.পি) বরাবর লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদান করতে ব্যর্থ হলে, দলীয় গঠণতন্ত্র অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, নেত্রকোণা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী মোঃ আজিজুর রহমান হানিফ, তাঁর চাচা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মোঃ খলিলুর রহমান।
গত শনিবার (১০অক্টোবর) আনুমানিক সন্ধ্যার দিকে ওই ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মোঃ খলিলুর রহমান তার ভাতিজা আজিজুর রহমান হানিফের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন – “বিএনপি ও পুলিশ যদি আপনাদের কষ্ট বা যন্ত্রণা দেয়, আমি এর দাঁতভাঙা জবাব দেব।
আপনাদের কোনো ভয় থাকবে না। আপনারা প্রকাশ্যে নির্বাচন করবেন। এমপি সাহেব যেহেতু মুখ বন্ধ রাখছেন, তাহলে আপনাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।” মোঃ খলিলুর রহমানের এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিও বলতে শোনা যায়, আমি কথা দিলাম। এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, এনসিপি যায় আছে। আপনারা ওপেন নির্বাচন করবেন। কোনো বিএনপি বা কোনো পুলিশ আপনাদের ছায়া না দিয়ে কষ্ট বা যন্ত্রণা দেয়। তবে তার দাঁতভাঙা জবাব দিবো আমি।
আপনাদের কোনো ভয় থাকবে না। এমপি সাব যেহেতু মুখ বন্ধ রাখছে। এইখানে ভয়ের কোনো কারণ আছে। মামলা করতে হবে তাই মামলা হইছে। কিন্তু মামলা হওয়ার পর আমার এই রৌহা ইউনিয়নে পুলিশ কয়দিন আসছে? বক্তব্যটি দেওয়ার সময় মোঃ খলিলুর রহমানকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে কথা বলতে দেখা যায়। বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেলে উপজেলা ও জেলা বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতার মুখে আওয়ামী লীগসহ প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর আশ্বাস এবং নিজ দল ও পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, বিগত দিনে রাজনৈতিক নির্যাতন ভোগ করা মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের জন্য এ ধরনের বক্তব্য অপমানজনক। খলিলুর রহমানের এমন বিতর্কিত বক্তব্যের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। তবে বিএনপি নেতা মোঃ খলিলুর রহমান ও তার ভাতিজা আজিজুর রহমান হানিফের সমর্থকদের দাবী এটি পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ৯:৩০