স্পোর্টস ডেস্ক : দলবদলের বাজারে তাকে নিয়ে খুব একটা আলোড়ন ছিল না। তবে চতুরতা ও বিক্ষণতার সেই তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড কার্লোস এস্পিকেই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উড়িয়ে এনেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। লেভান্তে থেকে ২৫ মিলিয়ন ইউরো রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে ৫ বছরের চুক্তিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত এই ২১ বছর বয়সি ফুটবলারকে দলে ভেড়ায় লস ব্লাঙ্কোসরা।
লা লিগায় নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এস্পানিওলের মাঠে ম্যাচের নব্বই মিনিটে বদলি হিসেবে নামা এই কার্লোস এস্পির গোলই রিয়াল মাদ্রিদকে রক্ষা করল লা লিগার প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খাওয়া থেকে। রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল।
ম্যাচের নবম মিনিটেই সাফল্য পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আরদা গুলারের ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহাম। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি এস্পানিওল। ৩০তম মিনিটে জাভি হার্নান্দেজের পাস থেকে অ্যালেক্স কালাত্রাভা গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। দ্বিতীয়ার্ধে ডেডলক ভাঙতে একাধিক পরিবর্তন আনেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনিয়ো। ৮০তম মিনিটে মাঠে নামা এস্পি সুযোগটি কাজে লাগান—কিলিয়ান এমবাপ্পে বল হারানোর পর সেই সুযোগে লক্ষ্যভেদ করে রিয়ালকে জয় উপহার দেন।
উল্লেখ্য, মরিনিয়োর বাজির ঘোড়া কার্লোস এস্পিকে দলে ভেড়ানো হুট করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। রিয়াল মাদ্রিদের স্কাউটরা দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করছিলেন ঐতিহ্যবাহী ও নিখুঁত ‘বক্স স্ট্রাইকার’ হিসেবে গড়ে ওঠা এই স্প্যানিশ তারকাকে। তরুণ এই ‘দৈত্যকে’ আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন হেড কোচ মরিনিয়ো। আর প্রথম ম্যাচেই তার উপর রাখা আস্থার প্রমাণ কিছুটা হলেও রাখলেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
১.৯৪ মিটার (৬ ফুট ৪ ইঞ্চি) উচ্চতার এস্পি আধুনিক ফুটবলের বিরল প্রজাতির একজন ট্র্যাডিশনাল সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড। ডি-বক্সের ভেতরে তার ক্ষিপ্রতা, হেড করার দারুণ ক্ষমতা এবং ওয়ান-টাচ ফিনিশিং তাকে অনন্য করে তুলেছে। বাতাসে বল দখলের লড়াইয়ে যার জয়ের হার ৫৬ শতাংশেরও বেশি।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো গতিশীল ও ড্রিবলিং-নির্ভর উইঙ্গারদের পাশাপাশি এস্পির শারীরিক শক্তি ও শক্তিশালী ডান পায়ের ফিনিশিং রিয়ালের আক্রমণভাগে যোগ করেছে একদম ভিন্ন মাত্রা। বিশেষ করে রক্ষনাত্মক বা ‘লো ব্লক’ টিমের বিপক্ষে তার উপস্থিতি ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
পুরো নাম: কার্লোস এস্পি এসক্রিহুয়েলা
জন্ম: ২৪ জুলাই ২০০৫ (বয়স ২১ বছর)
জন্মস্থান: ভ্যালেন্সিয়া, স্পেন
উচ্চতা: ১.৯৪ মিটার
পজিশন: সেন্টার-ফরোয়ার্ড (ডান পা)
সাবেক ক্লাব: আলজিরা, লেভান্তে বি, লেভান্তে
উল্লেখ্য, লেভান্তের হয়ে ২০২৩-২৪ মৌসুমে প্রমোশন ক্যাম্পেইনে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলকে লা লিগায় তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন এস্পি। এরপর ২০২৫-২৬ লা লিগা মৌসুমে নিজের জাত চেনান এই ফরোয়ার্ড। লেভান্তের হয়ে ১১টি গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি।
মার্চ ২০২৬-এর ‘লা লিগা প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ হওয়ার পাশাপাশি স্প্যানিশ লিগের সেরা অনূর্ধ্ব-২৩ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি। লেভান্তের হয়ে মোট ৬৬ ম্যাচে ২০ গোল করা এস্পির রিয়াল মাদ্রিদে দলবদলের চুক্তিটি ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ট্রান্সফার হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।
স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের হয়ে গোল করা এই তরুণ ফুটবলারের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ—বার্নাব্যুর বিপুল চাপ সামলে রিয়াল মাদ্রিদের একাদশে নিজের জায়গা পোক্ত করা এবং স্পেনের মূল জাতীয় দলের ডাক পাওয়া।
কিউএনবি/আয়শা/২৩ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১:০৫