ডেস্কনিউজঃ আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১৫ জন। দুর্গম এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সোকোটো প্রদেশের গোরোনি এলাকার গোরাউয়ের কাছে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৭০ জনের বেশি যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বেশিরভাগই শিশু।
পুলিশের মুখপাত্র আহমাদ রুফাই বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিবিসিকে জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও ১৪ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় সেখানে পৌঁছানো কঠিন। নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধান কাটার কাজে যাওয়া কৃষিজমির মালিক ও শ্রমিকদের সাথে শিশুরাও নৌকায় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি প্রায় ৫০টি লাশ দেখতে পেয়েছেন বলে জানান। অনেক লাশ মাদুর ও ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে রাখা হয়েছিল। পরে সেগুলো দাফনের প্রস্তুতি নেয়া হয়।
এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নৌকাটিতে ধান কাটার জন্য নিযুক্ত কৃষক ও শ্রমিকরা ছিলেন এবং ডুবে যাওয়ার সময় এতে ৭০ জনেরও বেশি লোক ছিলেন।
আরেক বাসিন্দা ইউসুফ জানান, প্রায় ৪০ টি শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগের বয়স ছিল ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।
নাইজেরিয়ার জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার (নেমা) মুখপাত্র ইজেকিয়েল মানজো বিবিসিকে বলেন, ‘গোরাউ খুবই দুর্গম এলাকা। আমাদের দল সেই দুর্গম জায়গাটিতে পৌঁছেছে।’
নাইজেরিয়ায় নৌকাডুবির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং নিরাপত্তা বিধি কার্যকরে দুর্বলতাকে এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত মাসে জিগাওয়া প্রদেশে নৌকা উল্টে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে জিগাওয়া থেকে ইয়োবে প্রদেশে কৃষক ও জেলেদের নিয়ে যাওয়ার সময় একটি নৌকা ডুবে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নাইজার নদী থেকে ৫৪টি লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় দুই শতাধিক যাত্রী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
নৌদুর্ঘটনা কমাতে নিরাপদ নৌযান ও লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ, নৌপথ খনন, ঘাট ও টার্মিনালে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এসব সুপারিশের অনেকগুলোই এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
নাইজেরিয়ার বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। দেশটির অনেক গ্রাম নদী ও জলপথের কাছে অবস্থিত। সড়কের দুরবস্থা ও সেতুর অভাবে এসব এলাকায় স্থলপথে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় মানুষ ও পণ্য পরিবহনে কাঠের নৌকা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি
কিউএনবি/বিপুল/২১.০৮.২০২৬/বিকাল ৪.৫৯