আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) এ বছর দাবানলে ইতিমধ্যেই ৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি ক্ষতি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের বার্ষিক গড় আনুমানিক ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস ও রোমানিয়ায় চলমান অগ্নিকাণ্ড মৌসুমের প্রথম দুই মাসেই প্রায় সাড়ে চার লাখ হেক্টর জমি আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনশ’ দশ কোটি ইউরোর এই আর্থিক ক্ষতি শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত জমি ও বনভূমি পুনরুদ্ধারের ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে হিসেব করা হয়েছে, যা পুরো ব্লকের জন্য ইউরোপীয় কমিশনের বার্ষিক আড়াইশো কোটি ইউরো গড়ের হিসাবকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল রেটিং এজেন্সি মর্নিংস্টার ডিবিআরএস-এর তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, কেবল ফ্রান্সে মোট ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো পর্যন্ত।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য বড় অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে ইউক্রেনকে দেয়া আর্থিক সহায়তার সাথে তুলনা করলে এই ক্ষতি অনেকটাই নগণ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত জুনেই ইউরোপীয় কমিশন ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নয় হাজার কোটি ইউরোর ইউক্রেন সাপোর্ট ঋণের প্রথম কিস্তি হিসেবে কিয়েভকে ৩২০ কোটি ইউরো প্রদান করেছে। ২০২২ সালে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সামরিক, আর্থিক ও মানবিক সহায়তা এবং শরণার্থী ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ইউক্রেনকে ২১ হাজার ৬৭০ কোটি ইউরোর বেশি অর্থ দিয়েছে ইইউ ও এর সদস্য দেশগুলো।
এদিকে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী এই দাবানল রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জারি করা নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ইইউ নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্পেন তাদের বহরে থাকা রুশ নির্মিত কামোভ কা-থার্টিটু ফায়ারফাইটিং হেলিকপ্টারগুলোর একটি বড় অংশ ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্পেন ও ফ্রান্স উভয় দেশই ‘ইইউ সিভিল প্রটেকশন মেকানিজম’ সক্রিয় করে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র ও তুরস্কের কাছ থেকে অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপক বিমান এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলের সহায়তা চেয়েছে।
সূত্র: আরটি
কিউএনবি/অনিমা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/সকাল ১১:৫৪