মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ অপরাহ্ন

গণঅভ্যুত্থানে আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলেও খুনি হাসিনার মন গলেনি: কাদের গণি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৭ Time View

ডেস্ক নিউজ : চব্বিশের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনকালীন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজ) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন, এদেশের শিশুরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিল। তাদের কথা না শুনে খুনি হাসিনা পাখির মতো গুলি করে শিশু, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে। উত্তরায় সাদা শার্ট ও নীল প্যান্ট পরা কলেজ ছাত্রদের গুলি করে হত্যা করা হয়; পিচঢালা রাস্তায় রক্তের নহর বয়ে যায়। সে সময় আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলেও খুনি হাসিনার মন গলেনি।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক র‍্যালি উত্তর সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন আহতদের বিষয়ে বলা হয়েছিল— ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। কাউকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, আবার ছাড়পত্রও দেওয়া হয়নি। এতবড় নির্দয় ও হিংস্র শাসক মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে না। ফ্যাসিস্টের দোসরদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, আমরা দেখছি, ফ্যাসিস্টদের দোসররা আজও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আমরা লড়াই করে হাসিনাকে তাড়িয়েছি। কেউ যদি এই ছাত্র হত্যার বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ বা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করতে চায়, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের খুনিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে কাদের গণি চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। খুনি হাসিনা এবং তার চিহ্নিত দোসররা যারা জুলাই হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের, বিদেশে পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে এবং দেশে থাকা আসামিদের দ্রুত বিচার ও ফাঁসি কার্যকর করতে হবে। বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে শত শত শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ ব্যর্থ হবে, যা শহীদের সঙ্গে বড় বিশ্বাসঘাতকতা। তাই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এমন নজির স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ বাংলাদেশে ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার সাহস না পায়।
জুলাইয়ের ঐক্যের শক্তি স্মরণ করে তিনি আরও  বলেন, এই জুলাই বিপ্লব আমাদের শিখিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা কখনো ব্যর্থ হয় না। আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম বলেই গত ১৫ বছর ধরে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা খুনি দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। শত শত শহীদ ও হাজারো ছাত্র-জনতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তাকে একাই দেশ ছাড়তে হয়েছে। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ খানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলম, সহ-সভাপতি নূরুল মোমেন তালুকদার, ডিইউজে নেতা এম. মোশারফ হোসেন ও নিজাম উদ্দিন দরবেশ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ে গণআন্দোলনের তোড়ে এদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল শেখ হাসিনা। ভারতে যাওয়ার আগে, আমাদের দেশের দেড় হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে। ত্রিশ হাজার ছাত্র-জনতাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। তিনি বলেন, যেই দেড় হাজারের মতো ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, এর মধ্যে ছয়জন সাংবাদিকও শহীদ হয়েছে। আমাদের দেড় হাজারের মতো সাংবাদিক সারা দেশে আহত হয়েছে। আমরা এই হত্যার বিচার হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আদায় করব, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুনতে পাই, সে নাকি বাংলাদেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি তার জন্য। এয়ারপোর্টে তাকে স্বাগত জানানো হবে ফাঁসির রশি দিয়ে। শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেড় হাজার ছাত্র-জনতার রক্তের প্রতি ফোঁটার বিচার করতে হবে। এখন যারা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাদের কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, কোনো ধানাই-পানাই আমরা দেখতে চাই না। আমরা চাই খুনিদের সঠিক বিচার চাই। তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার যদি না করা হয়, এ দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের বিচার যদি করা না হয়, তাহলে এ দেশে আবার ফ্যাসিবাদের জন্ম নেবে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৫ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:২৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit