মো আসাদুজ্জামান আসাদ পার্বতীপুর দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ছোট চন্ডিপুর গ্রামের মা-মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এবার হত্যার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতদের স্বজনরা। তারা দাবি করেছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে মা ও মেয়েকে হত্যা করে সেটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
গত সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত গৃহবধূ ছবি রানী রায়ের ভাই উজ্জ্বল চন্দ্র রায়।লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ছোট চন্ডিপুর গ্রামের রিপেন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী ছবি রানী রায় (৩৫) ও মেয়ে পল্লবী রানী রায় (১৪)-এর মৃত্যু কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না। তার অভিযোগ, রিপেন চন্দ্র রায়ের কথিত পরকীয়ার জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। সেই বিরোধের একপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পল্লবী রানী স্থানীয় গোল্ডেন হোপ রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই শ্রেণির এক সহপাঠীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের দাবি, গত ১৯ জুন ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে পল্লবী ঢাকায় চলে যান এবং সেখানে তারা বিয়ে করেন। এ সময় পল্লবীর মা ছবি রানীও তাদের সঙ্গে ছিলেন। পরে রিপেন চন্দ্র রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গত ২৬ জুন ঢাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে পার্বতীপুরে এনে উভয় পরিবারের জিম্মায় দেয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আত্মহত্যার পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাননি। তাদের দাবি, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তারা। নিহত ছবি রানীর ভাতিজা মানস কুমার বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা মরদেহ দুটি ফাঁস থেকে নামানো অবস্থায় দেখেছেন। তার ভাষ্য, ঘটনাটি তাদের কাছে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হয়েছে।
অন্যদিকে রিপেন চন্দ্র রায়ের ভাই গৌতম চন্দ্র রায় স্বজনদের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মানসিক চাপে মা ও মেয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
কিউএনবি/আয়শা/২১ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:৪০