এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়াকে গ্রুপ পর্ব সহজেই পার হওয়ার অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছিল। একই গ্রুপে ছিল আয়োজক দেশ মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেকিয়া। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় দলটি। চেকিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ই ছিল তাদের একমাত্র সাফল্য। তিন পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বেই শেষ হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ।
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে হং বলেন, গত দুই বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি নিজেকে একটি প্রশ্ন করতেন এটি কি সত্যিই দেশের ফুটবলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত? তিনি স্বীকার করেন, সব সিদ্ধান্ত যে ঠিক ছিল, তা বলতে পারবেন না। তবে দেশের ফুটবলের কথা ভেবেই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
হংয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং দলের ব্যর্থতা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যোগ্যতার পরিবর্তে আনুগত্য ও পক্ষপাতিত্বকে গুরুত্ব দিলে অযোগ্য মানুষ নেতৃত্বে আসে, আর তার ফল এমনই হয়।
রাষ্ট্রপতি দেশের মানুষের কাছে ক্ষমাও চান। তিনি বলেন, এই ব্যর্থতায় দেশের মানুষ যে হতাশ হয়েছে, তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য ক্রীড়া প্রশাসনে দ্রুত সংস্কার আনার কথাও জানান তিনি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই হং সমর্থক ও গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনার মুখে ছিলেন। ২০২৪ সালে তাকে প্রধান কোচের হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই সেই বিতর্ক চলছিল। ঘরের মাঠে ম্যাচের সময়ও দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে তাকে।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয় তার একটি সিদ্ধান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশের বাইরে রাখেন তিনি। সেই ম্যাচে একটি ড্র করলেই দক্ষিণ কোরিয়ার নকআউটে ওঠার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয়। দল ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
পদত্যাগের সময় হং বলেন, তিনি আর জাতীয় দলের প্রধান কোচ নন, কিন্তু একজন সমর্থক হিসেবে সব সময় দলের পাশে থাকবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন আবার দেশের মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাস ফিরে পাবে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফুটবল দল।