আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে চরম চাপে পড়েছেন সাধারণ ইরানিরা। একদিকে দেশের ভেতরে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দখলের মার্কিন ঘোষণায় তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
ইরানে বর্তমানে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট চলছে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও স্থানীয় মুদ্রার মান ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলা অবরুদ্ধ অবস্থা, অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা রীতিমতো হতাশ। সংঘাত নাকি কূটনৈতিক সমাধান—কোন দিকে পরিস্থিতি গড়াবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
এরই মধ্যে নিউইয়র্কের এক সমাবেশে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন। পরমাণু অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে মার্কিনিদের গ্যাসের জন্য কিছুটা বেশি খরচ করাটা যৌক্তিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া মার্কিন নৌ অবরোধকে ‘ইস্পাতের দেয়াল’ আখ্যা দিয়ে ওই জলপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকিতে কূটনীতির আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, টুইট বা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে হরমুজ দখল সম্ভব নয়।
দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি বলেন, হরমুজ সবসময় ইরানের ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ইরানি বাহিনীর নির্দেশ ছাড়া এটি খোলা বা বন্ধ হবে না। সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারিও মার্কিন দাবিকে বানোয়াট বলেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা চলছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা নিহত হন। এর জেরে ইরানের পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়েই মূলত বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরু হয়।
কিউএনবি/অনিমা/১৫ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:০৬