স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই ইতিহাস ও রেকর্ডের নতুন এক উপাখ্যান রচনা করলেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়তে এই ফরোয়ার্ড সময় নিয়েছেন মাত্র ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড। তার নিখুঁত শটটি যখন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুই পায়ের মাঝ দিয়ে জাল খুঁজে নেয়, তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি।
এই গোলের মাধ্যমে শুধু মেক্সিকোকে এগিয়েই নেননি বরং ফুটবল বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে নিজের নামটিকে চিরতরে অমর করে নিয়েছেন কিনিয়োনেস। আসরের প্রথম গোলদাতা হিসেবে পেলে, পল ব্রাইটনার, ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যান ও ফিলিপ লামের মতো কিংবদন্তিদের পাশে এখন উচ্চারিত হচ্ছে তাঁর নাম।
তবে এই মেক্সিকান নায়কের জন্মগল্পে রয়েছে এক দারুণ টুইস্ট। কিনিয়োনেস জন্মসূত্রে মেক্সিকান নন, তাঁর আদি বাড়ি কলম্বিয়ার কফির শহর মাগুই পায়ানে। ক্যারিয়ারের শুরুতে কলম্বিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেললেও দেশটির মূল জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য তাঁকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। একের পর এক উপেক্ষায় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর, ২০২৩ সালে যখন কলম্বিয়া থেকে ডাক আসে, ততদিনে তিনি মেক্সিকোর নাগরিকত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত পাকা করে ফেলেছেন। মেক্সিকান এক নারীকে বিয়ে করে জাতীয়তা পরিবর্তনের পর মেক্সিকোর জার্সিতেই মাঠে নামেন এই ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। আর তাতেই বিশ্বকাপ পেল এক নতুন ইতিহাস। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো আসরের উদ্বোধনী গোলটি করলেন এমন এক ফুটবলার, যিনি নিজ দেশের মাটিতে জন্মাননি। এবারের বিশ্বকাপে এক দেশে জন্মে অন্য দেশের হয়ে খেলছেন এমন ২৯২ জন ফুটবলারের মধ্যে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি। একই সঙ্গে কনকাকাফ অঞ্চলের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম গোল করার কীর্তিও এখন তাঁর ঝুলিতে।
কিনিয়োনেসের এই পথচলা কেবল জন্মভূমির গল্পেই সীমাবদ্ধ নয় ক্লাব ফুটবলেও তিনি সাম্প্রতিক সময়ে টেক্কা দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। সৌদি প্রো লিগের দল আল কাদসিয়ার হয়ে গত মৌসুমে ৩১ ম্যাচে ৩৩ গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচে ৩৭ গোল করা কিনিয়োনেস সেই মৌসুমে আল নাসরের পর্তুগিজ কিংবদন্তি রোনালদোর ৩০ ম্যাচে ২৮ গোলের রেকর্ডকে অনায়াসে পেছনে ফেলেছেন। সব মিলিয়ে রোনালদোর ৩৭ ম্যাচে ৩০ গোলের বিপরীতে কিনিয়োনেসের ৩৫ ম্যাচে ৩৭ গোল করার এই অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানই বলে দেয় তিনি কতটা ফর্মে আছেন। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর গোলসংখ্যা খুব বেশি না হলেও, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের এই গোলটিই নিঃসন্দেহে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সেরা ও স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে, যা মেক্সিকোকে এনে দিয়েছে দারুণ এক জয়।
কিউএনবি/অনিমা/১২.০৬.২০২৬/দুপুর ১.৩৫