শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরানি এয়ারলাইন নিষিদ্ধ করল আমিরাত নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরের প্রতিবাদ, নিউইয়র্কে গ্রেফতার ১০৩ ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিতে সম্মত ইইউ নারীর আপত্তিকর ছবি মুছে ফেলতে মেটাকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লেজার প্রযুক্তির অস্ত্র মোতায়েন, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য জাতিসংঘে সানগ্লাস পরে কেন বক্তব্য দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখঢাকা নিষিদ্ধ ইতালির স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সায় ট্রাম্পের প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে প্রেস ব্রিফিং আজ

খারগ দ্বীপ দখলের সহজ, এই চিন্তা করলেই ট্রাম্পের সামনে বড় বিপদ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের যে চেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন বিপজ্জনক মাত্রা যোগ করতে পারে। সামরিক বিশ্লেষক হ্যারিসন কাস তার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছেন, দ্বীপটি দখল করা যতটা সহজ হবে, মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২০ মাইল দূরের এই ভূখণ্ড ধরে রাখা ততোটাই কঠিন হবে। মূলত ইরানের ৯৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয় এই দ্বীপটি দিয়ে। ফলে এটি বর্তমানে তেহরানের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক লাইফলাইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

যুক্তরাষ্ট্র যদি শেষ পর্যন্ত খারগ দ্বীপে স্থল সেনা মোতায়েন করে, তবে সেটি কেবল একটি অভিযান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি হবে ইরানের মূল ভূখণ্ডের অতি নিকটে মার্কিন সেনাদের সরাসরি উপস্থিতি, যা যুদ্ধের প্রচলিত সংজ্ঞাকেই বদলে দেবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিতে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করলেও তেলের অবকাঠামো স্পর্শ করেনি। তবে এখন যে স্থল আক্রমণের আলাপ চলছে, তাকে কেবল কৌশলগত পদক্ষেপ নয় বরং ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখা হবে, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত তীব্র।

সমর্থকদের মতে, ইউএসএস ত্রিপোলির মতো শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ এবং অঞ্চলে থাকা মেরিন সেনাদের সহায়তায় খারগ দ্বীপ দখল করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। তারা মনে করেন, এর ফলে ইরানের তেল অর্থনীতি ধসে পড়বে এবং তেহরান নতি স্বীকার করতে বাধ্য হবে। কিন্তু সমরবিদরা এই চিন্তাকে একটি ‘ফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন। কারণ ২০ মাইলের ব্যবধানে থাকা খারাগ দ্বীপটি ইরানি রকেট, ড্রোন এবং কামানের গোলায় পরিণত হবে একটি স্থির লক্ষ্যে, যেখানে অবস্থান নেওয়া মার্কিন সেনাদের প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকিতে থাকতে হবে।

দ্বীপটি একবার নিয়ন্ত্রণে নিলে মার্কিন প্রশাসন নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক জটিলতায় আটকা পড়তে পারে। শত্রুভাবাপন্ন এই এলাকায় অবস্থানরত সেনাদের সুরক্ষা দিতে গিয়ে পেন্টাগনকে হয়তো যুদ্ধের পরিধি ইরানের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত করতে হবে। আবার হামলার মুখে দ্বীপটি থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে সেটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ইমেজ সংকট বা পরাজয় হিসেবে গণ্য হবে। এই দ্বিধাদ্বন্দ্বই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পথে হাঁটবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। অনেকে মনে করছেন, এটি হয়তো ট্রাম্পের সেই পরিচিত সর্বোচ্চ চাপের কৌশলেরই অংশ, যাতে দরকষাকষির টেবিলে ইরানকে কোণঠাসা করা যায়। তবে ইতিহাসে দেখা গেছে ট্রাম্প প্রায়ই বড় ধরনের শক্তি সঞ্চয় করে প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে পছন্দ করেন। কিন্তু খারগ দ্বীপের ক্ষেত্রে এই ‘থিয়েটার’ যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা কেবল একটি দ্বীপের দখল নয় বরং পুরো অঞ্চলের জন্য আরও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

কিউএনবি/অনিমা/০২ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১২:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit