বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্র স্থল আগ্রাসন চালালে ইরানের পক্ষে লড়বে রাশিয়ার চেচেন আর্মি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ২৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে যৌথভাবে আগ্রাসন চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর ৩২ দিন ধরে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিটন ও তেল আবিব।এরপরও ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে পরাজিত করতে না পেরে এবার স্থল আগ্রাসন চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সৈন্যরা হামলা করলে তাদের প্রতিহত করতে ইরানের পক্ষে যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন আর্মি। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো। ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান শুরু করে, তবে রমজান কাদিরভের অনুগত চেচেন সামরিক ইউনিটগুলো সেখানে মোতায়েন হওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছে। এটি ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাদিরভপন্থী বাহিনীগুলো ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা সম্ভাব্য যেকোনো হস্তক্ষেপকে ‘জিহাদ’ — অর্থাৎ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় ভালো ও মন্দের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছে। চলমান উত্তেজনা এবং জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে যে, কয়েক সপ্তাহের বিমান হামলায় কোনো চূড়ান্ত ফলাফল না আসায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত একটি স্থল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানি পক্ষগুলোর দাবি অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার সময় এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। এর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কমান্ডার এবং বেসামরিক নাগরিকদের হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের বিষয়গুলোও জড়িয়ে আছে।

তেহরান এর জবাবে নিরবচ্ছিন্ন সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর পাওয়া গেছে যে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অবকাঠামো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী অন্তত ৮৬ দফা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের একটি পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলে ইরান অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন সরাসরি মার্কিন ও ইসরাইলি অভিযানে সহায়তা করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের দূত আমির সাইদ ইরাভানি দাবি করেছেন যে, কিয়েভ এই অভিযানে সহায়তার জন্য ‘শত শত বিশেষজ্ঞ’ মোতায়েন করেছে।

ইউক্রেনীয় কর্মীদের এই কথিত সংশ্লিষ্টতাকে বিশ্লেষকরা একটি উল্লেখযোগ্য উসকানি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যকার বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের সঙ্গে এই সংঘাতকে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করছে।

চেচেন সৈন্য সমাবেশ বা ইউক্রেনীয় সেনা মোতায়েনের কোনো নিরপেক্ষ নিশ্চিতকরণ পাওয়া না গেলেও, এই দাবিগুলো সংঘাতটি আরও বড় আকার ধারণ করার এবং একাধিক রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষকে জড়িয়ে একটি বহুমুখী যুদ্ধের আশঙ্কাকাকেই জোরালো করছে।

চেচেন আর্মি কারা

চেচেন আর্মির প্রধান রমজান কাদিরভ নেতৃত্বাধীন কিছু সামরিক ইউনিট রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন। এই ইউনিটগুলোকে নির্দিষ্টভাবে ‘কাদিরোভৎসি’ বলা হয়। তারা কখনো কখনো রাশিয়ান সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে এবং কখনো কখনো চেচনিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকে।

সূত্র: দ্য ইয়ন।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৩১ মার্চ ২০২৬,/রাত ৮:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit