স্পোর্টস ডেস্ক : একটি জয় অথচ তার গল্প যেন অনেকগুলো নায়কের। ডারউইনের আকাশে বাংলাদেশের ক্রিকেট লিখল নতুন ইতিহাস। বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দুর্গে প্রথম আঘাতটা করেন হাসান মাহমুদ, ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়েছেন তানজিদ হাসান তামিম, আর ব্যাট-বল দুটিতেই লড়াইয়ের আগুন জ্বেলে সামনে থেকে পথ দেখিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এক নম্বর দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় বিশ্বাস, পরিকল্পনা, ধৈর্য আর দলীয় সামর্থ্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।
দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে মিরাজের পাঁচ উইকেটের মধ্যে ছিল স্টিভেন স্মিথের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটও। উইকেটের ফুটমার্ক স্পিনারদের সহায়তা করেছে বলে মনে করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ছয় উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের ছয় শিকার দুই বিভাগেই বাংলাদেশের পরিকল্পনা কাজে লেগেছে। ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টেও একই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চান এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাবতে হবে, এই কন্ডিশনে কীভাবে ভালো করা যায়। আমাদের ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই সঠিক সময়ে ভালো করতে হবে।’
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেছেন মিরাজ। দেশের মানুষের প্রতিক্রিয়া নিয়েও আবেগ লুকাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তে গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী দর্শকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। মিরাজ বলেন, ‘সবাই খুব খুশি। তারা খুব গর্বিত। এটা আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। অনেক দর্শক এখানে এসে আমাদের সমর্থন করেছেন। তাদের ধন্যবাদ। তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে আমরা ম্যাচটি জিততে পারি, আর সেই বিশ্বাসই আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে।’ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যে ইতিহাসের দরজা এতদিন বন্ধ ছিল, ডারউইনে এই জয় সেই দরজাই এবার খুলে দিল বাংলাদেশ।
কিউএনবি/আয়শা/১৬ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:০০