আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একসময় অতিরিক্ত জনসংখ্যা নিয়ে নানা টেনশনে থাকা ভারতে এখন ঠিক উল্টো সমস্যা দেখা দিয়েছে। মুডিস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে এখন আগের চেয়ে অনেক কম শিশু জন্ম নিচ্ছে। এর ফলে দেশের মানুষের বয়স বাড়তে শুরু করেছে।
জাপান বা ইউরোপের দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বুড়ো হয়েছিল, কিন্তু ভারত ধনী হওয়ার আগেই বয়স্ক দেশের তালিকায় নাম লেখানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত ২০২০ সালের দিকেই ‘বয়স বাড়ার’ ধাপে প্রবেশ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৪৯ সালের মধ্যে দেশটি পুরোপুরি ‘বয়স্ক’ এবং ২০৬৫ সালের মধ্যে ‘অতি-বয়স্ক’ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। মজার বা আশঙ্কার বিষয় হলো, বয়স্ক থেকে অতি-বয়স্ক হতে ভারতের মাত্র ১৬ বছর লাগবে, যেখানে আমেরিকার লাগবে ১৯ বছর।
এই পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হলো জন্মহার কমে যাওয়া। বিহার ও উত্তর প্রদেশ বাদ দিলে ভারতের জন্মহার এখন মাত্র ১.৬-এ নেমে এসেছে। মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি দিন বাঁচলেও নতুন জন্মহার অনেক কম। এর ফলে ভবিষ্যতে কাজ করার মতো মানুষের সংখ্যা কমে যাবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তাছাড়া উন্নত দেশগুলো ধনী হওয়ার পর বয়স্কদের পেছনে খরচ করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু ভারত তুলনামূলক কম আয় অবস্থাতেই বয়স্ক মানুষের চিকিৎসা ও পেনশনের বিশাল খরচ সামলাতে বাধ্য হবে।
ভারতের সব অঞ্চলে এই চিত্র এক রকম নয়। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে বয়স্ক মানুষের হার অনেক বেশি। অন্ধ্র প্রদেশের মতো রাজ্যে জন্মহার এত কমে গেছে যে সরকার এখন উল্টো তৃতীয় বা চতুর্থ সন্তান নেওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে। অথচ অন্যদিকে দেশের অন্যান্য জায়গায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরোনো নিয়মও চালু আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত দেশগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করেও জন্মহার বাড়াতে পারেনি। তাই নতুন শিশু জন্ম নেওয়ার আশায় বসে না থেকে বয়স্ক সমাজের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাছাড়া ভারতে কাজের জায়গায় নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৩২ শতাংশ, যা বাড়ানোর মাধ্যমে বড় একটা কর্মীবাহিনী তৈরি করা সম্ভব। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে এই বার্ধক্য ভারতের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি।
কিউএনবি/আয়শা/৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:২৫